বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল যেন আর্জেন্টিনার জন্য সৌভাগ্যের মঞ্চ। ইতিহাসে যতবার শেষ চারের লড়াই খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা, প্রতিবারই জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখ।লো লিওনেল স্কালোনির দল। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বুধবারের সেমিফাইনালে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনালে নিজেদের শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখে তারা।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে সপ্তমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে এককভাবে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে সর্বাধিক বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দলগুলোর অন্যতম হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৫০ বিশ্বকাপে একক ফাইনাল ম্যাচ ছিল না; সেবার চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়েছিল চূড়ান্ত গ্রুপ পর্বের মাধ্যমে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার যাত্রা শুরু হয় ১৯৩০ সালে। উদ্বোধনী আসরে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে তারা।
এরপরও প্রতিবারই সেমিফাইনালের বাধা টপকেছে আলবিসেলেস্তেরা—
* ১৯৩০: যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১
* ১৯৮৬: বেলজিয়ামকে ২-০
* ১৯৯০: ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে
* ২০১৪: নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে
* ২০২২: ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০
* ২০২৬: ইংল্যান্ডকে ২-১
অর্থাৎ, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ছয় ম্যাচ খেলেই ছয়বার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।
তবে এটি তাদের ইতিহাসের সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল। কারণ ১৯৭৮ সালে, যখন আর্জেন্টিনা প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, তখন টুর্নামেন্টের ফরম্যাট ছিল ভিন্ন। সেবার সেমিফাইনাল নকআউট ছিল না; দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বের শীর্ষ দল সরাসরি ফাইনালে খেলেছিল।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে ইতিহাস গড়ার আরেকটি সুযোগ। আগামী ১৯ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল। ম্যাচটি জিততে পারলে আর্জেন্টিনা নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তিও গড়বে।
আরআর/আইএন








