আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নীরবতা ভাঙলেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুদ বেলিংহ্যাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি একটি কবিতা শেয়ার করে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।
রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যা ঘটেছে এবং গত কয়েক সপ্তাহে আমরা যা পার করেছি, তা বর্ণনা করার মতো সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। তবে কানসাসে আমাদের আতিথেয়তাকারী মাইকেল চ্যান্ডলারের এই বার্তাটি ঠিক আমাদের অনুভূতিটাই প্রকাশ করেছে।’
এরপর তিনি মাইকেল চ্যান্ডলারের লেখা একটি দীর্ঘ কবিতা শেয়ার করেন, যেখানে ইংল্যান্ড দলের সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করা হয়েছে।
৫০ মিলিয়নের বেশি অনুসারী থাকা নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বেলিংহ্যাম আরও লেখেন, ‘দেশে থাকা এবং কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে আমাদের সমর্থন জানানো সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই অভিযানে আমরা যে ঐক্য ও ভালোবাসা দেখেছি, সেটি যেন এখানেই শেষ না হয়। আমরা যখন একসঙ্গে থাকি, তখন বড় কিছু অর্জন করতে পারি... এবং আমরা তা করবই। আমি আপনাদের ভালোবাসি।’
এদিকে চেলসির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের ভাই সেবা ফার্নান্দেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুদ বেলিংহ্যামকে কটাক্ষ করেছেন। ভাইয়ের করা গোলের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘হা, হা... বিদায়, বেলিংহ্যাম।’
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হারের পর জুদ বেলিংহ্যামকে ভীষণ মনমরা অবস্থায় দেখা যায়। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের কথিত উসকানির প্রতিক্রিয়ায় ভ্যালেন্তিন বারকোর মাথার পেছনে আঘাত করতে দেখা যাওয়ায় রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির সঙ্গে বেলিংহ্যামের কথোপকথনও আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ম্যাচ শেষে তিনি স্পষ্ট করেন, বিষয়টি নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বেলিংহ্যাম পরে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেসির সঙ্গে কথোপকথন? আসলে আমরা একটি ফাউল নিয়ে কথা বলছিলাম। খারাপ কিছু ছিল না। আমি নিশ্চিত, সবাই এটাকে বড় বিষয় বানানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু আসলে সেখানে তেমন কিছুই ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, তার আগে আমাদের ওপর একটি ফাউল হয়েছিল। তখন মেসি বলল, আর আমার ওপর যে ফাউলটা করা হয়েছিল, সেটা নিয়ে কী বলবে? আমি তখন বলেছিলাম, তুমি তো যথেষ্ট শক্ত, এটা সামলে নিতে পারবে। কথাটা ওই অর্থেই বলেছিলাম।’
হারের কষ্টের কথা স্বীকার করে বেলিংহ্যাম বলেন, ‘অবশ্যই আমি হেরে যাওয়া দলের একজন, তাই এটা খুবই কষ্টের। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের (মেসি) বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য গর্বের বিষয়।’
আরএএইচইউএল/আইএইচএস/








