থাইল্যান্ডের ব্যাংককের শহরতলিতে একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত ও ৭৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। থাইল্যান্ডে গত দুই দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এ ঘটনার পর সোমবার ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি ও তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা ‘রং বিয়ার না লাত প্রাও’ বার ও রেস্তোরাঁ ভবনের বাইরে মেঝেতে বেশ কয়েকটি মরদেহবাহী ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেছেন। রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে যখন আগুন লাগে, তখন মঞ্চে পারফর্ম করছিল একটি ব্যান্ড দল। ওই ব্যান্ডের সদস্য অওাথিপাত আইস উইজার্ন সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘সবাই দৌড়াচ্ছিল; একজন আরেকজনের ওপর এসে পড়ছিল।’

সোমবার থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় টকশো ‘হোন-ক্রাসায়ে’-তে তিনি বলেন, হঠাৎ আলো নিভে যায় এবং তারা দেখতে পান-তাদের পেছনের দেওয়ালে থাকা ইলেকট্রিক সার্কিট থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। বাইরে বের হওয়ার জন্য হামাগুড়ি দেওয়ার সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ একটি বিস্ফোরণ হলো এবং আমার মাথার পেছনে আঘাত লাগল। আমি প্রচণ্ড তাপ ও শরীর পুড়ে যাওয়ার অনুভূতি পাচ্ছিলাম ব্যান্ডের কিবোর্ড বাদক কোয়াং এবং কণ্ঠশিল্পী ব্রিজ দুজনেই মারা গেছেন। আথিপাত জানান, তার বান্ধবী ও ব্যান্ডের গায়িকা ব্রিজের শরীরে কোনো পোড়া দাগ ছিল না। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন ঘুমিয়ে আছেন। পরে এএফপির সাংবাদিকরা আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ইলেকট্রিক কিবোর্ডের ওপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখেন। বিধ্বস্ত ভেন্যুটিতে সোমবার সকাল থেকেই কাজ শুরু করেছে ফরেনসিক পুলিশ। ভবনের জানালাগুলো সব ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। কীভাবে এই আগুন লাগল এবং কেন এত মানুষের প্রাণহানি হলো-তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ত বলেন, ‘আগুন খুব দ্রুত সিলিং পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভবত ধোঁয়ার কারণেই বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’