রসুন শুধু রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ানোর মসলাই নয়, এটি বহুদিন ধরেই ভেষজ গুণের জন্য পরিচিত। ভাজাভুজি, মাছ-মাংসের ঝোল, স্যুপ কিংবা আচার-প্রায় সব ধরনের রান্নাতেই রসুনের ব্যবহার দেখা যায়। আবার অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কারণে প্রতিদিন সকালে কাঁচা রসুন খান।
সাম্প্রতিক সময়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও রসুনের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, রসুনে থাকা কিছু সক্রিয় যৌগ শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রশ্ন হলো, কাঁচা রসুন খেলে বেশি উপকার, নাকি রান্না করা রসুন-
রসুনের উপকারিতা
রসুনে রয়েছে সালফারজাতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ অ্যালিসিন। এই উপাদানটির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী (অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি) বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে, রক্তনালির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
প্রদাহ কম থাকলে শরীর ইনসুলিনের প্রতি তুলনামূলক ভালো সাড়া দিতে পারে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুটা সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়, বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
রসুন একটি পুষ্টিকর ও উপকারী খাদ্য উপাদান
অ্যালিসিন যেভাবে তৈরি হয়
অনেকেই মনে করেন, রসুনের কোয়া ছাড়িয়ে সরাসরি খেয়ে ফেললেই সব উপকার পাওয়া যায়। বাস্তবে বিষয়টি একটু ভিন্ন।
রসুনের ভেতরে অ্যালিন এবং অ্যালিনেজ নামে দুটি উপাদান থাকে। রসুন কুচি করা, থেঁতো করা বা কেটে দিলে এই দুটি উপাদান একে অপরের সংস্পর্শে এসে অ্যালিসিন তৈরি করে।
তবে অ্যালিসিন তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে। তাই রসুন থেঁতো বা কুচি করার পর প্রায় ১০ মিনিট খোলা বাতাসে রেখে তারপর খাওয়া বা রান্নায় ব্যবহার করলে অ্যালিসিন তৈরির সুযোগ বাড়ে।
ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে কীভাবে খাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুনের সম্ভাব্য উপকারিতা পেতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে-রসুনের খোসা ছাড়িয়ে কুচি বা থেঁতো করুন। ১০ মিনিট বাতাসে রেখে দিন। এরপর চাইলে কাঁচা খেতে পারেন অথবা রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন।
যারা কাঁচা রসুনের ঝাঁজ সহ্য করতে পারেন না, তারা রান্নায় মিশিয়েও খেতে পারেন। যদিও দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপে রান্না করলে অ্যালিসিনের একটি অংশ নষ্ট হতে পারে, তবুও রসুনের অন্যান্য উপকারী উপাদান বজায় থাকে।
রসুন পরিমিত পরিমাণে খেলে যে উপকার পাবেন
রসুন নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন
সকালে তেল দিয়ে কুলকুচি করলে যেসব উপকার পাবেন
যারা সতর্ক থাকবেন
সবার জন্য কাঁচা রসুন সমান উপযোগী নয়। যাদের বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাদের কাঁচা রসুন খেলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে রান্না করা রসুন খাওয়া তুলনামূলক ভালো। এছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন বা শিগগিরই অস্ত্রোপচার করাবেন, তারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে রসুন খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেহবে। কারণ অতিরিক্ত রসুন রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন
কাজের চাপে মাথাব্যথা, স্বস্তি দেবে যে পানীয়
রসুন একটি পুষ্টিকর ও উপকারী খাদ্য উপাদান, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ডায়াবেটিসসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর সর্বোচ্চ উপকার পেতে রসুন থেঁতো বা কুচি করে ১০ মিনিট রেখে খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি, হেলথলাইন
এসএকেওয়াই








