এবার পর্যটক ভিসায় কাজ করা পর্যটকদের প্রতি কঠোর হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ কর্তৃপক্ষ। জনপ্রিয় এ পর্যটন দ্বীপে অবস্থানরত ডিজিটাল নোম্যাড, লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার এবং ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে দ্রুতই। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটক ভিসায় দেশটিতে অবস্থান করে স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনা মূল্যে পণ্য বা সেবা নিয়ে তার বিনিময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করাও অবৈধ কাজ হিসেবে গণ্য হবে।

এ জন্য এপ্রিল মাসে ‘ধর্ম দেবতা’ নামে নতুন একটি অভিবাসন টহল ইউনিট গঠন করে ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ। এই ইউনিটের লক্ষ্য, দ্বীপে অবস্থানরত বিদেশিদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। এ ইউনিট ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান, ভিসা পেতে ভুয়া তথ্য প্রদান, অনুমতি ছাড়া কাজ করা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অন্যান্য ঘটনায় জড়িত বিদেশিদের শনাক্ত করবে।

সমুদ্রসৈকত, অনন্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিলাসবহুল রিসোর্টের কারণে বালি অ্যাস্থেটিক ইকোনমি বা নান্দনিকতাভিত্তিক কনটেন্ট অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এখানে স্থানীয় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি কনটেন্ট নির্মাতাদের অর্থের বদলে বিনা মূল্যে পণ্য, বিলাসবহুল রিসোর্টে থাকা বা স্পা সেবার বিনিময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারমূলক কনটেন্ট তৈরি করে। ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ পর্যটক ভিসায় অবস্থান করে বিনা মূল্যে পণ্য বা সেবা গ্রহণের বিনিময়ে প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি ও পোস্ট করা অবৈধ কর্মসংস্থানের আওতায় পড়বে।

কর্তৃপক্ষ অবৈধ কর্মকাণ্ডের তালিকা তৈরি করেছে। সে তালিকায় আছে মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করা, আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পণ্যের প্রচার বা ব্যবসার বিজ্ঞাপন করা এবং অর্থ না পেলেও যেখান থেকে কোনো না কোনো সুবিধা পাওয়া যায়।

বালির অভিবাসন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ১৬৫ জন বিদেশিকে ডিপোর্ট করা হয়েছে এবং ৬২ জনকে আটক করা হয়েছে।

নতুন এই নির্দেশনার পর বালির কনটেন্ট নির্মাতা, পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোন পর্যায়ে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে অবৈধ কাজ হিসেবে ধরা হবে?

বালিতে বসবাসরত কানাডীয় কনটেন্ট নির্মাতা জোল্ট জেম্বা এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘কেউ যদি কোনো রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে সেটি নিয়ে পোস্ট করেন, তাহলে কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরে নেওয়া হবে যে এটি অর্থের বিনিময়ে করা বিজ্ঞাপন?’ তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন, যেসব ইনফ্লুয়েন্সার কোনো কাজের জন্য পারিশ্রমিক পান, তাঁদের অবশ্যই সেই কাজের উপযোগী বৈধ ভিসা থাকা উচিত।