পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা এখনো সেভাবে শুরু হয়নি। তবে তার আগেই সতর্ক রাজ্যের নতুন সরকার। ডেঙ্গু নজরদারিতে যাতে কোনো কমতি না থাকে, সেদিকে বিশেষ জোর দিয়েছে প্রশাসন।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় যেন সমন্বয়ের অভাব না হয়, সেজন্য পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর এবং কলকাতা করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সরকার। এডিস মশা নিধন ও বিস্তার রোধে এবার আটঘাট বেঁধে নেমেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।
আরও পড়ুন
মশা দিয়েই মশা নিধন / বাংলাদেশে ডেঙ্গু মোকাবিলার পথ দেখাতে পারে সিঙ্গাপুরের আজব কৌশল
পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
প্রতিবছর বর্ষা শুরুর আগে কলকাতা শহর ও শহরতলির একাধিক সরকারি ও বেসরকারি অফিস ভবনে পানি জমে থাকে। অতীতে সেভাবে নজর না দিলেও, পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগাম ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন পানি জমতে থাকা জায়গাগুলো প্রতিনিয়ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। কোনোভাবেই যাতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা জন্মাতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ড্রোনের ব্যবহার ও সচেতনতা বৃদ্ধি
এরই মধ্যে কলকাতা করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিকদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। ড্রেনের পানিতে যাতে লার্ভা জন্মাতে না পারে, সেজন্য যন্ত্রচালিত মেশিন দিয়ে ধোঁয়া দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এবার আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। কলকাতার বহুতল ভবনের ছাদ বা ফাঁকা জমিতে ড্রোনের সাহায্য নিয়ে দেখা হচ্ছে কোথাও পানি জমে আছে কিনা। করপোরেশনের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও খোঁজ নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন
২ বার হলে নিশ্চিত মৃত্যু? ডেঙ্গু নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোর সত্যতা কতটুকু
রাস্তার ড্রেনের ঢাকনা খোলা থাকলে সেখানে লার্ভা জন্মায়—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেই দিকগুলোতেও নজর দিয়েছে সরকার।
উপদ্রুত এলাকা ও আক্রান্তের সংখ্যা
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত কলকাতায় ২৮ জনের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, পার্ক সার্কাস, যোধপুর পার্ক, তপসিয়া, লেক গার্ডেন ও খিদিরপুর এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা গেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যেসব জায়গায় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে বা সাইড খোলা আছে, সেখানে ডেঙ্গুর পানি জমছে। এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করার জন্য প্রধান সচিব সব অঞ্চলের জন্য একটি স্পষ্ট নির্দেশ দেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর-১-এর অন্তর্গত পৈলান ও আমতলা এলাকা রয়েছে। সেখানকার গাইডলাইন জেলা প্রশাসকেরা দেবেন। এ ছাড়া রাজ্যের মন্ত্রী পরিষ্কার একটি নির্দেশিকা জারি করে দেবেন। এখানকার কর্মকর্তারা একটি কমিটি তৈরি করবেন, যা আজ থেকেই কাজ শুরু করে দেবে।’
কলকাতাবাসীর সুরক্ষায় জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খুব দ্রুততার সঙ্গে আমরা কলকাতার মানুষের জীবন বাঁচাতে চাই। এই কাজটা দ্রুত করা হবে এবং আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে এই কাজ করতে চাই।’
ডিডি/কেএএ/








