ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের মূল ভবনের নিচতলার দক্ষিণ পাশের বন্ধ গেটগুলো অফিস চলাকালে পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি।

এ বিষয়ে সোমবার (২০ জুলাই) সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশেই ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত অবস্থিত। একই এলাকায় রয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনসহ বিভিন্ন আদালত। দীর্ঘদিন ধরে ওই দিকের একাধিক গেট ব্যবহার করে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালতসংশ্লিষ্টরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করে আসছিলেন।

সমিতির ভাষ্য, সম্প্রতি গেটগুলোতে তালা লাগিয়ে এবং কিছু অংশে ইটের দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য দিনে একাধিকবার বিভিন্ন আদালতে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ বিচারপ্রার্থীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, প্রবীণ, অসুস্থ এবং হাঁটু বা কোমরের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। বর্তমানে বিকল্প হিসেবে যে পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, সেখানে সিঁড়ি থাকায় তাদের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন

প্রধান বিচারপতি / বিচারপ্রার্থীরা আল্লাহর পর আইনজীবীর ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন

আগে দক্ষিণ পাশের গেট ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতের মধ্যে যাতায়াত করা সম্ভব ছিল। এখন গেট বন্ধ থাকায় দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে বলে দাবি করেছে আইনজীবী সমিতি।

এছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতসহ নির্বাহী আদালতগুলোতেও পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। এতে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও বিচারপ্রার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে প্রশাসনের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আইনজীবী সমিতি বলেছে, উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অন্তত একটি গেট জরুরি ভিত্তিতে খুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠির অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টরের (এনডিসি) কাছেও পাঠানো হয়েছে।

এমডিএএ/একিউএফ