আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই সাংবাদিক নেতাকে আসামি করায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একাধিক সাংবাদিক সংগঠন। মামলা দায়েরের পর বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি, বরিশাল টেলিভিশন ও মালটিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনগুলোর নেতারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। দেশব্যাপী আলোচিত এ ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ বাদী হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে। মামলার ২১ নম্বর আসামি করা হয়েছে আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সম্পাদক ও বাংলা টিভির প্রতিনিধি এফ এম নাজমুল রিপনকে এবং ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, সাংবাদিকদের আসামি করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে নির্দোষ সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে হামলাকারী এবং হামলায় উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। তদন্তে কেউ জড়িত না থাকার প্রমাণ মিললে তাকে কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না এবং প্রয়োজন হলে মামলার এজাহার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেফতার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন তার মৃত্যুর খবর কেন্দ্র করে এলাকায় পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ইতোমধ্যে নারী-পুরুষসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।