ডিজেল ইঞ্জিনের অন্যতম বড় সমস্যা- বায়ুদূষণ কমানোর একটি অত্যন্ত সহজ উপায় খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ডিজেল জ্বালানির সঙ্গে খুব সামান্য পরিমাণে পানি মিশ্রিত করে ব্যবহার করলে নাইট্রোজেন অক্সাইড ও পার্টিকুলেট ম্যাটারের মতো ক্ষতিকর উপাদানের নির্গমন ৬০ শতাংশের বেশি কমানো সম্ভব।বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স ডেইলিতে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় এই তথ্য উঠে এসেছে। নাইজেরিয়ার ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ওয়েরির গবেষকরা বিশ্বজুড়ে হওয়া বিভিন্ন গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, পানির সঙ্গে ডিজেলের এই মিশ্রণ পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য এক বড় অগ্রগতি। গবেষকরা তথাকথিত ‘ওয়াটার-ইন-ডিজেল ইমালশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এই প্রযুক্তিতে সার্ফ্যাক্ট্যান্ট নামক রাসায়নিকের সাহায্যে ডিজেল জ্বালানির মধ্যে অতি ক্ষুদ্র পানি কণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই মিশ্রণটি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব প্রায় ৬০ দিন পর্যন্ত। যখন এই মিশ্রণ ইঞ্জিনে ইনজেক্ট করে জ্বালানো হয়, তখন পানির কণাগুলো দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়। এই পরিবর্তনের ফলে ‘মাইক্রো-এক্সপ্লোশন’ বা অতি ক্ষুদ্র বিস্ফোরণ ঘটে, যা জ্বালানি ভাঙতে সাহায্য করে এবং বাতাসের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়। গবেষণা পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গমন কমতে পারে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত। আর পার্টিকুলেট ম্যাটার বা কালো ধোঁয়া নির্গমন কমতে পারে ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত। শুধু দূষণ কমানোই নয়; কয়েকটি পরীক্ষায় ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতাও উন্নত হয়েছে। অর্থাৎ, ইঞ্জিন বেশি কার্যকরভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে পেরেছে। অন্য গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ইঞ্জিনে নির্গমন কমাতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর, তবে কার্বন মনোক্সাইড বা হাইড্রোকার্বনের মতো নির্গমন বাড়তে পারে- বিশেষ করে হালকা যানবাহনে। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এর জন্য ইঞ্জিনের নকশায় কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই। বর্তমান ডিজেল ইঞ্জিনগুলোর ফিল্টার বা ক্যাটালিটিক কনভার্টারের মতো দামি সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। গবেষক দলের প্রধান লেখক ড. চুকউয়েমেকা ফরচুনাটাস এননাদোজি বলেছেন, ‘পানি-ডিজেল ইমালশন ডিজেল ইঞ্জিন পরিষ্কার করার একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী উপায়। যেহেতু ইঞ্জিন পুনর্নকশার প্রয়োজন নেই, তাই এটি উন্নয়নশীল ও উন্নত উভয় দেশেই দূষণ কমানোর তাৎক্ষণিক পথ দেখায়।’ গবেষণায় প্রায় ৬০ দিন পর্যন্ত মিশ্রণ স্থিতিশীল থাকার কথা বলা হলেও, এটি এক ধরনের ‘কাজ করবে’- এর প্রমাণ। বাস্তব জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে এই মিশ্রণ কতদিন টেকসই হবে, তা নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষকেরা সার্ফ্যাক্ট্যান্ট নির্বাচন অপটিমাইজ করা এবং ইঞ্জিনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার পরামর্শ দিয়েছেন। স্বল্পমেয়াদি এই সমাধান জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলার পূর্ণ সমাধান নয়, তবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সবুজ শক্তিতে রূপান্তরের সময় একটি ‘ব্রিজ’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
রাজনীতি
এবার ডিজেল ইঞ্জিন হয়ে উঠবে ‘পরিবেশবান্ধব’

শেয়ার করুন







