উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষায় সংখ্যার বিবেচনায় এবার অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীও তুলনামূলক বেশি। পরীক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে ফরম পূরণ করেও আজ বৃহস্পতিবার পরীক্ষার প্রথম দিনে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
গত বছর পরীক্ষার প্রথম দিন ১৯ হাজার ৭৫৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। আগের বছর প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী।
এ ছাড়া এ বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফরম পূরণই করেননি। মানে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।
এবার সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন।
প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা পরীক্ষাসংক্রান্ত দৈনন্দিন তথ্যে বলা হয়, প্রথম দিনে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রথমে দিনে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ১৭ হাজার ২৩৩ জন অনুপস্থিত ছিলেন। আর ৫ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।
এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে (কুরআন মাজিদ বিষয়) ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন (বাংলা-২) ৩ হাজার ৭৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মাদ্রাসায় একজন ও কারিগরিতে একজন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
গত বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন।
খারাপ ‘ইন্ডিকেটর’
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির পর এইচএসসিতে নির্ধারিত হারে সব সময় ঝরে যায়। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া অথবা পরিবারের জন্য কাজে যুক্ত হওয়া...সেটি ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকত। কিন্তু এবার দেখা গেল মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরিতে ৫৪ শতাংশ ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৩৩ শতাংশ ঝরে গেছে। এটা বড় সংখ্যা।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি মনে করেন, শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছে না, পরীক্ষা সঠিকভাবে হচ্ছে। অভিভাবকেরা সহযোগিতা করছেন, প্রশাসন অন্যায্য বন্ধ করেছে। সবকিছু মিলিয়ে এবার হয়তো কিছুসংখ্যক ছাত্রছাত্রী চিন্তা করেছেন...বিগত দিনের মতো প্রস্তুতি ছাড়া কেউ যেতে পারছেন না। সে জন্য বোধ হয় হারটি বেড়ে গেছে। কিন্তু এটি খুব খারাপ ইন্ডিকেটর (সূচক)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
৩৬% শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন না







