নিজস্ব প্রতিবেদক,  গাজীপুর: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চৌড়া ভাদগাতী। ছোট্ট একটি গ্রামের নাম। সেই গ্রামেরই একটি বাড়ি থেকে একদিন একটি মেয়ে স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিল হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের যুক্তরাজ্যে। হাতে ছিল বই, মনে ছিল মানুষের সেবা করার অদম্য ইচ্ছা। বহু বছরের অধ্যবসায়ের পর সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব।

চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের আইয়ুব সাবের টিপু ও বাকিয়া চৌধুরী লতা দম্পতির একমাত্র কন্যা তাজরা সাবের যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আর এই অর্জনের পরই তাঁর জন্য খুলে গেছে নতুন এক অধ্যায়—যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএস (NHS)-এ চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি।

শৈশব থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ও পরিশ্রমী ছিলেন তাজরা। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্বপ্নও বড় হয়েছে। সেই স্বপ্ন তাঁকে নিয়ে গেছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটিতে। দীর্ঘ পথচলা, অসংখ্য পরীক্ষা, নির্ঘুম রাত আর কঠোর পরিশ্রমের শেষে তিনি অর্জন করেছেন চিকিৎসকের সনদ।

ইতোমধ্যে স্কটল্যান্ডের ফোর্থ ভ্যালি রয়্যাল হাসপাতাল-এ তাঁর নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই তিনি হাসপাতালটিতে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেবেন।

স্কটল্যান্ডের লারবার্ট শহরে অবস্থিত এই হাসপাতালটি পরিচালনা করে এনএইচএস ফোর্থ ভ্যালি। ২০১০ সালে চালু হওয়া আধুনিক এই চিকিৎসাকেন্দ্র স্টার্লিং এলাকাসহ প্রায় তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে। প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা ও উন্নত সেবার জন্য হাসপাতালটির আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

তবে তাজরার স্বপ্নের পরিধি শুধু বিদেশের হাসপাতালের দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর বিশ্বাস, চিকিৎসকের পরিচয় কেবল একটি পেশা নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য দায়িত্ব।

তাজরা বলেন, মানুষের সেবা করাই তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। সুযোগ ও সময় পেলে তিনি বাংলাদেশে এসে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে চান। নিজের দেশের মানুষের জন্য কিছু করার এই অঙ্গীকারই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।

তাজরার এই অর্জনে আনন্দে ভাসছে তাঁর পরিবার। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের মানুষও গর্বিত। তাঁদের বিশ্বাস, আজ যে মেয়ে স্কটল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যাত্রা শুরু করছেন, তিনি আগামী দিনে নিজের কর্ম, মানবিকতা ও সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের নামও উজ্জ্বল করবেন।

একটি গ্রামের মেয়ের এই সাফল্য তাই শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের গল্প নয়; এটি স্বপ্ন, অধ্যবসায়, পরিবার, শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা এবং মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার এক অনুপ্রেরণার গল্প।

The post একটি গ্রামের নাম, একটি মেয়ের স্বপ্ন, আর সাদা অ্যাপ্রনের গল্প appeared first on ZoomBangla.