স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) সামনে থাকা বহুমাত্রিক সংকট আন্তর্জাতিক সংহতি এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি উদ্বেগজনকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঋণের বাড়তি বোঝা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমে যাওয়া, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, ডিজিটাল বৈষম্য এবং স্বল্পসুদে অর্থায়নের সংকট এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও জোরদার করতে হবে। সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ শুধু ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং দোহা কর্মসূচির (ডিপিওএ) লক্ষ্য অর্জনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে ২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি সংখ্যক স্বল্পোন্নত দেশের জন্য টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণের লক্ষ্য বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠিন হয়ে পড়েছে।

বক্তব্যে তিতুমীর পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এগুলো হলো- পর্যাপ্ত ও স্বল্পসুদে অর্থায়ন বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমানো।