২০১৮ সালে রাশিয়ায় মাত্র ১৯ বছর ২০৭ দিন বয়সের বিশ্বকাপ জিতেছিলেন ফ্রান্সের প্রাণভোমরা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি পেলের (১৯৫৮) পর মাত্র দ্বিতীয় টিনএজার হিসাবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোলের কীর্তিও তার। এবার এমবাপ্পে হওয়ার হাতছানি স্পেনের তরুণ প্রাণভোমরা লামিনে ইয়ামালের সামনে। সেজন্য প্রথম আজ ডালাসে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে হবে ইয়ামালের স্পেনকে। কাল ছিল ইয়ামালের ১৯তম জন্মদিন। দুই বছর আগে নিজের ১৭তম জন্মদিনের পরদিন স্পেনের হয়ে ইউরো জিতে তারকা থেকে মহাতারকা হয়ে ওঠেন এই বার্সেলোনা উইঙ্গার। সেবার সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের ২-১ ব্যবধানের জয়ে চোখ ধাঁধানো এক গোল করেছিলেন ইয়ামাল। গত বছর নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে ফের ফ্রান্সকে হারানোর পথে তিনি করেন জোড়া গোল।

নিজের প্রথম বিশ্বকাপে এখনো সেই বিধ্বংসী রূপ দেখাতে পারেননি ইয়ামাল। জাদুকরী ফুটবল খেললেও ছয় ম্যাচে তার গোল মাত্র একটি। যেখানে ছয় ম্যাচে এমবাপ্পে করেছেন আট গোল। বিশ্বকাপে যেন এমবাপ্পেরই টুর্নামেন্ট। ছয় আসর মিলিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২১ গোল করেছেন আর্জেন্টাইন মহানায়ক লিওনেল মেসি। তিন আসরে ২০ ম্যাচে ২০ গোল করে মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ২৭ বছর বয়সি এমবাপ্পে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্স অধিনায়ক আজই ভেঙে দিতে পারেন মেসির রেকর্ড। ব্রাজিলীয় গ্রেট কাফুর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসাবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার হাতছানি এমবাপ্পের সামনে। সেটি হলে ইয়ামালের আর টিনএজার হিসাবে বিশ্বকাপে জেতার সুযোগ থাকবে না।

ফর্মের বিচারে এমবাপ্পে এগিয়ে থাকলেও ব্যক্তিগত দ্বৈরথে এগিয়ে ইয়ামাল। দুজন খেলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায়। ক্লাব ফুটবলে তাই নিয়মিতই দেখা হয় তাদের। এমবাপ্পে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর গত দুই মৌসুমেই লা লিগা জিতেছে ইয়ামালের বার্সা। এল ক্লাসিকোতেও বার্সার জয়জয়কার। সব মিলিয়ে ক্লাব ও দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ১০ বার মুখোমুখি হয়েছেন দুজন। ইয়ামাল জিতেছেন আটবার, এমবাপ্পে দুবার। এবার লড়াইটা বিশ্বকাপের মঞ্চে যেখানে নিয়মিতই আলো ছড়ান এমবাপ্পে।