খ্যাতনামা কৃষকনেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশের জন্মবার্ষিকী ছিল গতকাল। তিনি ১৯০০ সালের ২৭ জুন দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার সুলতানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সেতাবগঞ্জ থেকে প্রবেশিকা, রাজশাহী কলেজ থেকে আইএ এবং বিএ পাশ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ভারতের উত্তরপ্রদেশের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ এবং আইনে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন। হাজী মোহাম্মদ দানেশ ঠাকুরগাঁও আদালতে প্রথম উকিল হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। দিনাজপুর এসএন কলেজে ইতিহাসের অধ্যাপক হিসাবে শিক্ষকতা করেন।
তিনি ছাত্রজীবনেই কৃষকের ওপর অত্যাচারের প্রতিকারে কৃষক আন্দোলনে আকৃষ্ট হন। ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গসংগঠন কৃষক সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেন। তার নেতৃত্বে দিনাজপুর জেলায় টোল আদায় বন্ধ ও জমিদারি উচ্ছেদের দাবিতে কৃষক আন্দোলন জোরদার হয়। আন্দোলনকালে তিনি কারাভোগ করেন। তেভাগা আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য ১৯৩৮ সালে তিনি দুবার গ্রেফতার হন। ১৯৩৮ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত তিনি তোলাবাটি আন্দোলন, গান্ডি আদায় বন্ধ আন্দোলন, ‘জাল যার জলা তার’ আন্দোলন করেন এবং গ্রেফতার হন। নীলফামারী জেলার ডোমারে ১৯৪২ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় কৃষক সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন হাজী দানেশ।
তিনি ১৯৪৫ সালে মুসলিম লীগে যোগদান করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কারাভোগ করেন এবং ১৯৪৭ সালে মুক্তিলাভ করেন। ১৯৫২ সালে গণতন্ত্রী দল নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং ওই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দিলে তিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে দিনাজপুর জেলা থেকে পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। অতঃপর কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক ৯২-ক ধারা জারি করে পূর্ববঙ্গ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলে তিনি গ্রেফতার হন এবং ১৯৫৬ সালে মুক্তিলাভ করেন। ১৯৫৭ সালে গণতন্ত্রী দলকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সঙ্গে যুক্ত করেন। ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। হাজী দানেশ ন্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পরে জেনারেল সেক্রেটারি হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় গণমুক্তি ইউনিয়ন গঠন করেন। ১৯৮৬ সালের ২৮ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


