সারা দেশে হামের উপসর্গে বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরও ১ হাজার ১৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম ও এর উপসর্গ (সন্দেহভাজন রোগী) দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ (সন্দেহভাজন রোগী) নিয়ে সিলেট ও রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলায় একজন করে মোট ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭১০ জন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৬ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে আরও ৮৪৮ শিশুর মধ্যে এর উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এ সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭ শিশুর দেহে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৮৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৮৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
দেশে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও ইউনিসেফ বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেয়। ৫ এপ্রিল ঢাকার বাইরে বিশেষ গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ১২ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ২০ এপ্রিল দেশব্যাপী জাতীয়ভাবে গণটিকা কার্যক্রম পরিচালনা করে সরকার। ২০ মে এই ক্যাম্পেইন শেষ হয়। দুমাস আগে শেষ হওয়া ক্যাম্পেইন বিষয়ে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি ১০৩ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে। বর্তমানে হামের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের ১০৭ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে।

