পরকীয়া প্রেম করায় তালাক দেয় দ্বিতীয় স্বামীকে। সেই প্রেমিকের সাথে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে সিদ্ধিরগঞ্জে বসবাস করেও আসছিল। কিন্তু বাদ সাধে বিয়ে। পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রেমিক গলাচেপে হত্যা করে প্রেমিকাকে। এ ঘটনার ১০ দিন পর নারায়ণগঞ্জ পিবিআই ঘটনার তদন্ত করে পরকীয়া প্রেমিককে গ্রেফতার করে। আদালতে সোপর্দ করলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয় পরকীয়া প্রেমিক। এর আগে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্বামীকেও গ্রেফতার করে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের গার্মেন্টকর্মী সাদিয়া আক্তার (২৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারই পরকীয়া প্রেমিক আ. রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে (২৫) ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন জিনজিরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তার ভাই রিয়াজ মোল্লা (৪৪) বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। গার্মেন্টকর্মী সাদিয়া আক্তার প্রায় তিন বছর পরকীয়া প্রেম করার পর ইব্রাহীম নামক এক ব্যক্তির সাথে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এর আগে তার প্রথম স্বামী শহীদুল ইসলামকে তালাক দেয় সাদিয়া। শহীদুল ইসলামের ঘরে তার এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পূর্বে ইব্রাহীম স্ত্রী-সন্তান নেই বললেও বিয়ের পরে সাদিয়া জানতে পারেন ইব্রাহীমের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর ইব্রাহীম সাদিয়াকে ভরণপোষণ না দিয়ে তার প্রথম স্ত্রীর সাথে বেশি সময় কাটানোয় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াবিবাদ লেগে থাকত। এক পর্যায়ে সাদিয়া রাজ্জাক নামে আরেক সহকর্মীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এরপর পরিণয়। এক পর্যায়ে সাদিয়া ও রাজ্জাক স্বামী-স্ত্রী হিসাবে গত ১ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় শাহজাহান মাস্টারের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস শুরু করে। গত ১২ জুলাই সাদিয়ার সাথে আব্দুর রাজ্জাকের পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ১৩ জুলাই রাত অনুমান ১০টায় বাড়ির মালিক শাহজাহান মাস্টার ওরফে সোহেল সাদিয়ার বাসার মূল ফটক খোলা দেখে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার সামনে গিয়ে দেখে সাদিয়া ফ্লোরে পড়ে আছে। পরে তিনি আশপাশের বাসার ভাড়াটিয়া ও লোকদের নিয়ে দেখেন সাদিয়া মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তখন বাড়ির মালিক ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করে। তাকে ১২ জুলাই বেলা পৌনে ১২টা থেকে ১৩ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার মধ্যে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ধারণা। তদন্তে নেমে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন কোনাপাড়া এলাকা থেকে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্বামী ইব্রাহীমকে গ্রেফতার করে রিমান্ড আনে।