গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে মুদ্রা পাচার ও মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্রকে গতকাল রোববার রাতে নিজের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর সিআইডির পক্ষ থেকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ওই মামলায় হরিদাস চন্দ্রকে আজ সোমবার বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা।

বিকেল চারটায় ডিবির একটি সাদা গাড়িতে করে হরিদাস চন্দ্রকে আদালতে আনা হয়। পরে তাঁকে হাজতখানা থেকে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় আদালতের এজলাস কক্ষে ওঠানো হয়। এ সময় তাঁর হাতে হাতকড়া, গায়ে লাল টি–শার্ট, পরনে লুঙ্গি, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরানো ছিল। বিকেল ৪টা ২৪ মিনিটে আদালতের কাঠগড়ায় উঠিয়ে পুলিশ তাঁর হাতকড়া ও হেলমেট খুলে দেয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থের উৎস, অর্থ জমাদাতাদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে তাঁর জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় আদালতকে বলেন, এগুলো ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ও ধর্মীয় কাজে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম। তার ফলে এমন ভুয়া মামলায় তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং–সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ নেই। আসামির একটাই অপরাধ, তিনি সুন্দর একটি মন্দির করেছেন। হাজার হাজার মানুষ সেখানে প্রার্থনা করতে যান। এ ছাড়া তাঁর আর কোনো অপরাধ নেই। কিন্তু প্রার্থনার জন্য বড় মন্দির বানানো কি অপরাধ?

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। আজ সোমবার বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে  

এ সময় আসামিপক্ষের এই বক্তব্যকে মিথ্যা ও মনগড়া বলে দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবির হোসেন। আদালতকে তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ সাপেক্ষেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য তাঁকে রিমান্ড নেওয়া প্রয়োজন।

এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা হরিদাস চন্দ্র আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, তিনি আগে কৃষিকাজ করতেন, বর্তমানে মন্দির পরিচালনা করেন। আদালতের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কোনো ভক্ত যদি আমাকে টাকা দেয় ভগবানের সন্তুষ্টিতে খরচ করতে, তাহলে সেটি কি আমার দোষ? মন্দির বানানো কি আমার পাপ?’

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হরিদাস চন্দ্র বলেন, ‘আমি কোনো অর্থ পাচার করিনি।’

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ধর্মের লেবাসে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন এই আসামি। তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আছে। কোথা থেকে এত টাকা এল? বাইরের কোনো সংস্থা বা কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্তের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এই মামলার শুনানি নিয়ে হরিদাস চন্দ্রের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় গাইবান্ধা থেকে সেই হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার