ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগে প্রভাষক পদে এক শিক্ষকের স্ত্রীর নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগকে অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪ তম সিন্ডিকেট সভায় আইসিটি বিভাগে প্রভাষক পদে বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফিরোজা নাজনীনসহ কয়েকজনের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরই বিভিন্ন মহলে তার নিয়োগ এবং একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী থাকাকালে ফিরোজা নাজনীন প্রথম বর্ষের একটি কোর্সে অকৃতকার্য হন। এছাড়া, একটি কোর্সে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর তার একাডেমিক সনদে ‘ইমপ্রুভমেন্ট’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি। আরো অভিযোগ করা হয়, শিক্ষার্থী থাকাকালে দ্বিতীয় বর্ষ থেকে একই বিভাগের শিক্ষক এবং জিয়া পরিষদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ড. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ প্রেক্ষাপটে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলেন সংশ্লিষ্টদের একাংশ।

তবে, এসব অভিযোগ অযৌক্তিক দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, “কোনো যোগ্য প্রার্থী কেবল কারো ভাই, বোন বা স্ত্রী হওয়ার কারণে অযোগ্য হয়ে যেতে পারে? কারো ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বৈবাহিক জীবন থাকা কোনো অপরাধ? এছাড়া, কোনো শিক্ষার্থী ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিলে তার চূড়ান্ত সনদে কখনোই ইমপ্রুভমেন্ট শব্দটি লেখা থাকার কথা নয়। এটি একাডেমিক নিয়মের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।”

তিনি আরো বলেন, “যাকে নিয়ে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তিনি একজন অত্যন্ত যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী। তিনি ইতোমধ্যেই ঢাকার একটি স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে তার পেশাগত দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পালন করছেন। এছাড়া উচ্চশিক্ষায় তিনি জাপানি সরকার থেকে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।”

এ বিষয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ফারুকুজ্জামান খান বলেন, “একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিতর্কিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম দুই দফা পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফিরোজা নাজনীনের একাডেমিক ফলাফলে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আনেন। এ ঘটনায় একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।