কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। একই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে নিশ্চিত যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত পডকাস্টার জো রোগান-এর সঙ্গে দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে এপস্টেইনের সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন তত্ত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে ভ্যান্স বলেন, এপস্টেইনের স্পষ্টভাবেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। একইভাবে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা মহলের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল।

ভ্যান্স আরও দাবি করেন, ইসরায়েলে এপস্টেইনের যোগাযোগগুলো মূলত দেশটির বামঘেঁষা রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

তিনি বলেন, এপস্টেইনের যোগাযোগগুলো ইসরায়েলের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর বামপন্থী অংশের সঙ্গে ছিল বলেই মনে হয়। বিষয়টি সব সময়ই আমার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনীতির সঙ্গে তার তেমন ঘনিষ্ঠতা ছিল না।

সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স আরও স্বীকার করেন যে, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিপত্র (Epstein files) নিয়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন নিশ্চিতভাবেই ভুল করেছে।

তিনি মূলত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি-র সমালোচনা করেন। বন্ডি একসময় দাবি করেছিলেন, এপস্টেইনের কথিত ‘ক্লায়েন্ট তালিকা’ তার ডেস্কে রয়েছে।

ট্রাম্প এপ্রিলে বন্ডিকে বরখাস্ত করেন। তার নেতৃত্বে বিচার বিভাগ রক্ষণশীল ভাষ্যকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে (The Epstein Files: Phase 1) এবং (Declassified) শিরোনামের নথির সংকলন সরবরাহ করা হয়েছিল।

ভ্যান্স বলেন, আমি পামকে চিনি, তাকে পছন্দও করি। আমার মনে হয় না, তিনি কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে এটা করেছিলেন। তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানাতে চেয়েছিলেন। তবে, আমাদের কাছে যা ছিল এবং যা অজ্ঞাত ছিল সে বিষয়ে তিনি অতিরঞ্জিত বক্তব্য দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বন্ডির মন্তব্যের কারণে তাকে প্রকাশ্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এর ফলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়।

ভ্যান্স বলেন, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে আমাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই ভুল করেছি। কিন্তু আমি মনে করি না, আমরা কিছু লুকানোর চেষ্টা করছিলাম বলেই এই ভুল হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জানুয়ারি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মানি-লন্ডারিং ও যৌন অপরাধের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই নথি শুধু একটি সাধারণ মামলা সংক্রান্ত নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত একটি বিশাল নেটওয়ার্কের তথ্য ধারণ করেছে। জেফরি এপস্টেইনের অপরাধ ইতিহাস দীর্ঘ এবং বিতর্কিত। ২০০৮ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত শুরু হয়

সূত্র: আল-জাজিরা

কেএম