সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে সুদানে ‘গণহত্যায়’ অস্ত্র সহায়তা ও সমর্থন করছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই)। এই অভিযোগে আমিরাতের ওপর অবিলম্বে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ডেমোক্রেসি ফর দ্য অ্যারব ওয়ার্ল্ড নাউ (ডন)।
সংস্থাটি বলেছে, জাতিসংঘের তদন্তে আরএসএফের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি, আরএসএফকে অস্ত্র, যানবাহন ও জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে ইউএই এসব অপরাধে সহযোগী হয়ে উঠেছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জরুরি অধিবেশন আহ্বানেরও দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ডন। একই সঙ্গে তারা সুদানের পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বিচারের জন্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দারফুরে বিদ্যমান অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা পুরো সুদানে সম্প্রসারণ করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ডন দাবি করেছে, চাদ ও লিবিয়ার সীমান্ত হয়ে ইউএই-সংশ্লিষ্ট সরবরাহপথে আরএসএফের কাছে অস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও জ্বালানি পাঠাচ্ছে। এছাড়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্লেষণে আরএসএফের ব্যবহৃত ইউএই-নির্মিত সাঁজোয়া যান এবং ইউএইর মাধ্যমে পুনঃরপ্তানি করা চীনা নোরিনকো অস্ত্রেরও উল্লেখ রয়েছে।
ডনের নির্বাহী পরিচালক ওমর শাকির বলেন, সুদানে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী বাহিনীকে আমিরাতের সমর্থন দেওয়ার প্রমাণ অত্যন্ত শক্তিশালী। জাতিসংঘের তদন্তে যে বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে ইউএই সেই বাহিনীর প্রধান বিদেশি পৃষ্ঠপোষক।
সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, চীন ও ইতালির প্রতি ইউএইর কাছে অস্ত্র বিক্রি, পুনঃরপ্তানির অনুমোদন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে, ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সুদানের কোনো যুদ্ধরত পক্ষকে ইউএই সামরিক বা আর্থিক সহায়তা দেয়নি এবং দিচ্ছে না। এদিকে, অতীতে ইউএইর কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সুদানের আরএসএফ।
২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সুদানের এই সংঘাতে দেশটিতে এক কোটিরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং প্রায় দুই কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে।
কেএম








