ফুটবল কখনো কখনো বয়সের হিসাব ভুলে যায়। জন্মসনদ তখন নিছকই একটি কাগজ। বল যখন লামিনে ইয়ামালের বাঁ পায়ে এসে থামে, মনে হয় ফুটবল নিজেই একটু থেমে দেখতে চায় ছেলেটি এবার কী করে! স্পেন যদি রঙের ক্যানভাস হয়, ইয়ামাল তার সবচেয়ে দুরন্ত তুলির আঁচড়। স্পেন যদি কবিতা হয়, এই কিশোর তার বাঁ পায়ে লেখা বিস্ময়ের পঙ্ক্তি। তিনি শুধু ফুটবল খেলেন না, ফুটবলকে দিয়ে ছবি আঁকান। কখনো গোল, কখনো এমন একটি পাস, যার শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করে সতীর্থের উল্লাস। বাঁ পা, বার্সেলোনা, লা মাসিয়া, তাকে দেখে অনেকেই লিওনেল মেসির কথা বলেন। কিন্তু ইয়ামাল কোনো মহাকাব্যের পুনর্মুদ্রণ নন। তিনি লিখছেন নিজের প্রথম সংস্করণ।

তার সবচেয়ে বড় শক্তি নির্ভীকতা। সামনে একজন ডিফেন্ডার? এগিয়ে যাবেন। দুজন? তবু চেষ্টা করবেন। জায়গা নেই? জায়গা বানাবেন। তার ফুটবলে এখনো ভয় ঢুকতে পারেনি। বিশ্বকাপের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে, ইতিহাস জানে না। তবে একটি দৃশ্য মনে থাকবে বল পায়ে এক কিশোর, সামনে ডিফেন্ডার, গ্যালারি উঠে দাঁড়াচ্ছে। ইয়ামাল দৌড় শুরু করেন। ফুটবল তখন আর শুধু খেলা থাকে না, হয়ে ওঠে কবিতা। আর সেই কবিতার কিশোর কবি লামিনে ইয়ামাল।