সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাসফিল্ডের অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য পরিশোধের দাবিতে গ্যাসফিল্ডে তালা দিয়েছেন ভূমি মালিকরা। সোমবার ক্ষুব্ধ জমির মালিকরা গ্যাস ফিল্ডে তালা ঝুলিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সিলেট জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাদের কাছ থেকে ১৬ কেদার (কিয়ার) জমি অধিগ্রহণ করেন। কিন্তু তখন মূল্য পরিশোধ ছাড়াই কূপ খনন শুরু হয়। কিন্তু জমি মালিকরা তাদের জমির মূল্য আদায়ে দৌড়ঝাঁপ করেও তা পায়নি। তবুও এলাকা ও জাতীয় স্বার্থে গ্যাসফিল্ডের কাজের সুযোগ দেন তারা। এরপর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নানা অজুহাতে জমির মালিকদের মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে জমির শ্রেণিসংক্রান্ত জটিলতাও সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন বিষয়ে একটি সভা আহ্বান করা হলে জমির মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়। মালিকরা ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি এবং বর্তমান বাজারদরে জমির মূল্য পরিশোধের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জমির মালিকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা গ্যাসফিল্ডে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ফারুক আহমদ বলেন, ২০১৭ সালে জমি অধিগ্রহণের পর মাটি ভরাটের সময়ই মালিকরা বাধা দিয়েছিলেন। তখন তাদের দাবি ছিল, ভূমির ন্যায্যমূল্য পরিশোধ করে মাটি ভরাটের কাজ করতে হবে। কিন্তু দাপ্তরিক জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে সে সময় মালিকপক্ষ মাটি ভরাটের কাজে বাধা দেয়।
তিনি আরও বলেন, এলাকা ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এবং গ্যাস ফিল্ডে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের শর্তে জমি মালিকদের বুঝিয়ে মাটি ভরাটের কাজে সহযোগিতা করি। কিন্তু এরপরও নানা টালবাহানার মাধ্যমে জমির মালিকদের প্রাপ্য মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। উলটো তারা দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা গ্যাস ফিল্ডে তালা দিয়েছেন। তাদের এ কর্মসূচি যৌক্তিক।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত গ্যাসফিল্ড কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি।








