সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে নির্মাণ কাজে চলাচলকারী কংক্রিট মিক্সচার ট্রাক থেকে মই পড়ে এক শিক্ষার্থী আহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ট্রাক কোম্পানিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে প্রক্টর অফিস। তবে ঘটনার ১০ দিন পরেও বিষয়টি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসের বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অফিসে যান দুর্ঘটনায় আহত ওই শিক্ষার্থী। এসময় তার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই ক্যাম্পাসে মেয়েদের আবাসিক হলের সংযোগ সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স (সিইপি) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান সিয়াম। এসময় হঠাৎ তার উপর নির্মাণ কাজে চলাচলকারী কংক্রিট মিক্সচার ট্রাক থেকে একটি মই পড়ে, এতে মাথায় ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পান ওই শিক্ষার্থী। আহত শিক্ষার্থীকে সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসাবাবদ খরচ নিজ বিভাগ থেকে বহন করা হয়।

এদিকে, শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ট্রাক কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস। ইতোমধ্যে সেই টাকা পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি। তবে জরিমানার টাকা আহত শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়নি, এমনকি বিষয়টি সম্পর্কে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিইপি বিভাগের (২০২০-২১) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাশিদ আবরার জাগো নিউজকে বলেন, আমার জুনিয়র সিয়াম গত ৪ জুলাই আহত হলেও এখন পর্যন্ত প্রক্টর বা প্রক্টর অফিস থেকে খোঁজ নেওয়া হয়নি। আমরা হঠাৎ জেনেছি প্রক্টর অফিস অভিযুক্ত ট্রাক কোম্পানিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে, তবে বিষয়টি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে জানানো হয়নি। ভুক্তভোগীর উপস্থিতি ছাড়াই তারা বিচার কার্য সম্পন্ন করেছে। আজ আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রক্টর স্যারের সঙ্গে দেখা করি, তবে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান সিয়াম জাগো নিউজকে বলেন, মেয়েদের আবাসিক হল এলাকার সংযোগ সড়কে আমি আহত হই। ট্রাকটি আটকানোর পর সহকারী প্রক্টর স্যাররা ঘটনাস্থলে আসলেও প্রক্টর স্যার আসেননি হয়তো তিনি বাইরে ছিলেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে আমাকে মাউন্ট এডোরাতে পাঠানো হয়, সঙ্গে আমার বন্ধুরা ছিলেন সহকারী প্রক্টর স্যাররা কেউ যাননি। চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বিভাগ থেকে বহন করা হয়।

প্রক্টর অফিস থেকে পরবর্তীতে খোঁজ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না প্রক্টর অফিস থেকে এর মধ্যে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। ট্রাক কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়েছে বিষয়টি আমি গতকাল বিভাগের এক সিনিয়র থেকে জানতে পেরেছি। আমাকে কেন জানানো হয়নি জানতে চাইলে প্রক্টর স্যার বলেন এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তুমি ট্রিটমেন্টে ছিলে তাই যোগাযোগ করা হয়নি। এছাড়া প্রক্টর স্যার ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন বলে জানানো হয়।

প্রক্টর অফিস থেকে কি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানার টাকা আমাকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর জন্য আমাকে একটি আবেদন করতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোখলেছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার সব দায়ভার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করেছি। ট্রাক কোম্পানিকে ডেকে আমরা কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি- এর মধ্যে একটি হলো জরিমানা। এছাড়া, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বলা হয়েছিল তার সব ভাউচার জমা রাখতে, চিকিৎসার সব খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে। আহত ছাত্র এখন সুস্থ হয়েছে। ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করলে জরিমানার টাকা থেকে সমন্বয় করে দেওয়া হবে নাকি পুরো টাকাটা দেওয়া হবে প্রক্টরিয়াল বডি ছাত্রদের ডেকে সেই সিদ্ধান্ত নেবে। এই বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে যেহেতু ভুক্তভোগী এখনো ভাউচারগুলো জমা দেয়নি।

গত ১০ দিনে জরিমানার বিষয়ে কেন ভুক্তভোগীকে জানানো হয়নি জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, এখানে গ্যাপটা হলো সে এখনো আমাদের কাছে ভাউচারগুলো জমা দেয়নি। ভাউচারগুলো পেলে আমরা সমন্বয় করবো।

চিকিৎসা ব্যয় বহনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তাদেরকে বলেছিলাম নিজে থেকে আপাতত ব্যয় বহন করতে পারবে নাকি আমাকে সমন্বয় করতে হবে। তারা আমাকে জানিয়েছিল তারা আপাতত এটা ম্যানেজ করবে। ভাউচারগুলো দিলে আমরা সমন্বয় করে দেব। এখানে গ্যাপ কিছু হয়নি। আমি তিনদিনের ছুটিতে ছিলাম। আমরা ভুক্তভোগীর আবেদন পেলে জরিমানার টাকা দিয়ে দেবো।

এসএইচ জাহিদ/এনএইচআর/এএসএম