কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় এক রাতেই নারী ও শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং শহরের লাইট হাউস এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী হাজারো পরিবার এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।উদ্ধারকারী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর মাটির স্তূপ পড়লে তিনি, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম ও চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। এর কিছুক্ষণ পর ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়।এদিকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১১ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। অন্যদিকে শহরের লাইট হাউস এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উখিয়া স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে এপিবিএন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে কাজ করছে প্রশাসন।শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাহাড় ও বনাঞ্চল উজাড় হওয়ায় এই ঝুঁকি বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, বিপদাপন্ন পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে মাইকিং ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।