এক সময় রান্নাঘরের অপরিহার্য অংশ ছিল বঁটি। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন বেশিরভাগ রান্নাঘরেই জায়গা করে নিয়েছে ছুরি আর চপিংবোর্ড। ব্যবহার সহজ, সময় বাঁচায়, তাই অনেকেই চপিংবোর্ডে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু চপিংবোর্ড বলতে বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন কাঠের চপিংবোর্ড নাকি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
তবে সত্যি হলো, কাঠের চপিংবোর্ড শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, সঠিকভাবে ব্যবহার ও যত্ন নিলে এটি দীর্ঘদিন টেকসই থাকে। তাই কাঠের চপিংবোর্ড ব্যবহার করা নিয়ে দ্বিধা থাকলে আগে এর সুবিধা ও সঠিক যত্নের পদ্ধতি জানা জরুরি।
কাঠের চপিংবোর্ড ব্যবহার
কাঠের চপিংবোর্ড সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি, যা সহজে পচনশীল এবং পরিবেশবান্ধব।
এছাড়া কাঠের বোর্ডে ছুরি চালালে সেটি তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছুরির ধারও দীর্ঘদিন ঠিক থাকে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, কাঠের পৃষ্ঠে কিছু ব্যাকটেরিয়া দীর্ঘক্ষণ বাঁচতে পারে না, যা স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ইতিবাচক।
যত্ন নিলে চপিংবোর্ড বছরের পর বছর ব্যবহার করা যায়
কাঠের চপিংবোর্ডে যেসব সমস্যা হতে পারে
যত্ন না নিলে কাঠের চপিংবোর্ডেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে বোর্ডের উপর ছোট ছোট ফাটল তৈরি হতে পারে। সাধারণত কাঠের আর্দ্রতা কমে গেলে এটি শুষ্ক হয়ে যায় এবং তখনই ফাটল ধরে।
এই ফাটলগুলোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় সমস্যা। কারণ, সেখানে ময়লা ও খাবারের কণা জমে গিয়ে জীবাণুর জন্ম দিতে পারে। এছাড়া কখনো কখনো বোর্ডের পৃষ্ঠ অসমান হয়ে যায়, ফলে কাটার সময় সেটি নড়বড়ে লাগে। এতে রান্নার কাজও ঠিকমতো করা যায় না এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।
যেভাবে কাঠের চপিংবোর্ডে ফাটল পড়া রোধ করবেন
কাঠের চপিংবোর্ড ভালো রাখতে নিয়মিত তেল ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। তেল কাঠের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে কাঠ শুকিয়ে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
যে কোনো খাবার উপযোগী তেল, যেমন: নারিকেল তেল বা সরিষার তেল, হালকা করে বোর্ডের উপর মেখে রাখতে পারেন। কিছুক্ষণ রেখে দিলে তেল কাঠের ভেতরে ঢুকে যাবে এবং কাঠ আরও মজবুত হবে।
এই ছোট অভ্যাসই আপনার চপিংবোর্ডকে দীর্ঘদিন ভালো রাখবে।
তেল ব্যবহার করলে কাঠের চপিংবোর্ডে ফাটল পড়ার ঝুঁকি কমে
কাঠের চপিংবোর্ডের সঠিক যত্ন
কাঠের চপিংবোর্ড শুধু ব্যবহার করলেই হবে না, নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও জরুরি। প্রতিবার ব্যবহারের পর কাঠের চপিংবোর্ড ঈষদুষ্ণ পানি ও হালকা ডিশওয়াশ লিকুইড দিয়ে ধুয়ে নিন। কখনো দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না বা ডিশওয়াশারে দেবেন না। এতে কাঠ ফুলে যেতে পারে কিংবা ফেটে যেতে পারে।
মাছ বা মাংস কাটার পর যদি দুর্গন্ধ থেকে যায়, তাহলে বোর্ডের ওপর সামান্য লবণ ছিটিয়ে অর্ধেক লেবু দিয়ে ঘষে নিন। কয়েক মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে দাগ ও দুর্গন্ধ অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।
ধোয়ার পর বোর্ডটি অবশ্যই শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে খাড়া করে শুকাতে দিন। ভেজা অবস্থায় ফেলে রাখলে ফাঙ্গাস ও ছত্রাক জন্মাতে পারে।
আরও পড়ুন
বর্ষায় মাছির উপদ্রব? জানুন বাঁচার সহজ উপায়
যদি নিয়মিত ব্যবহার করেন, তাহলে সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার তেল লাগানো ভালো। কম ব্যবহার করলে মাসে এক বা দুইবার তেল লাগালেও যথেষ্ট। বোর্ড যদি দেখতে শুষ্ক লাগে বা রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে আবার তেল লাগানোর সময় হয়েছে।
আরও পড়ুন
রান্নাঘরের নন-স্টিক পাত্র কখন পরিবর্তন করবেন
অল্প কিছু নিয়ম মেনে চললেই কাঠের চপিংবোর্ড দীর্ঘদিন টেকসই রাখা সম্ভব। তাই কাঠের চপিংবোর্ড যত্ন নিয়ে রাখুন নতুনের মতো।
সূত্র: দ্য কিচেন, দ্য স্প্রুস
এসএকেওয়াই








