পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে নেমেছে বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা। সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। শনিবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিনের ঘটনাগুলো শুধু বিচ্ছিন্ন নয় বরং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলেন, একাধিক ঘটনার আগেই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংগঠনের দাবি, ৪ জুলাই পশ্চিম মেদিনীপুরের পালবাড়ি এলাকায় এক নবদম্পতির ব্যক্তিগত ধন্যবাদজ্ঞাপন প্রার্থনাসভা ও নৈশভোজে একদল দুষ্কৃতকারী হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত নারী ও পুরুষদের মারধর করা হয়। কয়েকজন নারীর ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের প্রতীক জোর করে মুছে দেওয়া এবং ভেঙে ফেলার অভিযোগও তোলা হয়। সংগঠনের আরও দাবি, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট গির্জার যাজক রেভারেন্ড অনুপ ঘোষকে আটক করা হয়। এরপর ৯ জুলাই পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার ফরিদপুর কলোনির একটি গির্জায় উপাসনা চলাকালে হামলার অভিযোগ ওঠে। সংগঠনের ভাষ্যানুযায়ী, লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল ব্যক্তি গির্জায় ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। উপাসনালয়ের পাশাপাশি আবাসিক অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের দাবি, ঘটনার আগে গির্জা কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। একইদিনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরের বুড়িবটতলায় নবনির্মিত একটি গির্জায় হামলার অভিযোগও তুলে ধরে সংগঠনটি। তাদের দাবি, হামলার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে লিখিতভাবে অভিযোগ গ্রহণের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি খড়গপুরের বড়বটি এলাকার বেথেল গির্জায় হামলার পর সেখানকার যাজককে গ্রেফতার করার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবার নেতারা বলেন, গত এক মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংগঠনটি জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে তারা মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দেবে। একই সঙ্গে আগামী মঙ্গলবার কলকাতার চৌরঙ্গি এলাকায় শাস্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, তাদের দাবি অনুযায়ী মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং রাজ্যের খ্রিষ্টান পরিবার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ।