কৃষ্ণসাগরে জার্মান মালবাহী জাহাজ ‘এমিল’-এ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে জাহাজটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনে জার্মান ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা পুমার একটি লজিস্টিকস কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত এবং গাড়ির রাসায়নিক পণ্য নির্মাতা লিকিউ মোলিইর কেন্দ্রীয় গুদাম ধ্বংস হয়েছে।

ডয়চে ভেলের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এসব তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইউক্রেনিফর্ম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ওডেসা বন্দরের কাছে কৃষ্ণসাগরে জার্মান বাল্ক ক্যারিয়ার এমিলে কয়েকটি রুশ ড্রোন আঘাত হানে। এতে জাহাজটির বেশ কয়েকটি কারিগরি ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়। ফলে, জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ বা দিক পরিবর্তনে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং এতে আগুনও ধরে যায়।

হামলার সময় জাহাজটি ওডেসা বন্দর থেকে প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল বা ৩৯ কিলোমিটার দূরে ছিল। পরে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার সময় আরও একটি ড্রোন জাহাজটিতে আঘাত হানে।

জানা গেছে, ‘এমিল’ লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ হলেও এর মালিকানা হামবুর্গভিত্তিক জার্মান নৌপরিবহণ প্রতিষ্ঠান জোহান এমকে ব্লুমেন্থাল (Johann M. K. Blumenthal)। ওই দিন ‘মেরা কুইন’ নামের আরেকটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজও হামলার শিকার হয়। গিনি-বিসাউয়ের পতকাবাহী জাহাজটি শস্য বহন করছিল।

এদিকে জার্মান ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা পুমা জানিয়েছে, ৪ আগস্ট রাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় ইউক্রেনে তাদের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্র আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গুদামটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেনি।

একই দিনে কিয়েভে জার্মান গাড়ির রাসায়নিক পণ্য নির্মাতা লিকোই মোলির একটি গুদামও ধ্বংস হয়। কোম্পানির এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আপাতত গুদামটি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। তবে, ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কৃষ্ণসাগরে দুটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে মস্কোর দাবি, জাহাজগুলো ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য ‘সামরিক সরঞ্জাম’ বহন করছিল। জার্মান কোম্পানিগুলোর বেসামরিক গুদামে হামলার বিষয়টি রাশিয়া কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় সামরিক পণ্যের ‘লজিস্টিকস ও বিতরণকেন্দ্রে’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কেএম