কুমিল্লায় ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইয়াছির আরাফাত এই রায় দেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফুকে ২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।

কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মোতালেব মজুমদার জানান, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল সদর দক্ষিণ উপজেলার বালুর চর খিলপাড়ার প্রবাসী জাকির হোসেনের মেয়ে তাজরিন সুলতানা ঝুমুর স্কুলে গিয়ে আর ফিরেনি। দীর্ঘসময় খোঁজাখুঁজি করেও তাজরিনকে না পাওয়ায় তার মা সদর দক্ষিণ থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করেন। বিকালেই খেয়াইশ ঠাকুর বাড়িসংলগ্ন ধান খেত থেকে তাজরিনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় মা রাজিয়া আক্তার সদর দক্ষিণ থানায় মফিজুল ইসলাম মফু ও অজ্ঞাতদের আসামি করে মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরদিনই ১ মে র‌্যাব আসামি মফিজুল ইসলামকে চাঁদপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে আসামি মফিজুল তাজরিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। আদালত মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মফিজুল দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার দণ্ডাদেশ দেন। মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামি ও বাদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, বিচারকালীন মাত্র উনিশ শুনানির কার্য দিবসের মধ্যে এই রায় দেওয়া বিচার বিভাগের অনন্য নজির। আমরা মনে করি বাদীপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ এতে সন্তুষ্ট।