কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তিন দিন পর আজ মঙ্গলবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানির উচ্চতা সব কটি পয়েন্টে কমতে শুরু করায় জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে শুরু করেছে। তবে বন্যা পরিস্থিতি আবারও অবনতির আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবোর বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, জেলার সব নদ-নদীর পানি কমছে। দুধকুমার নদের পানি কমে (মঙ্গলবার) বেলা ৩টায় পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ ছাড়া ধরলা ও তিস্তার সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও কমতে শুরু করেছে।

সূত্র আরও জানায়, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলা-সংলগ্ন নদীর নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দুধকুমার নদের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এদিকে পানি কমলেও ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এসব নদীর ভাঙনে অন্তত অর্ধশত পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে পাউবো।

নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ও বামনডাঙা ইউনিয়নের মালিয়ানিরপার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অসম্পন্ন অংশ দিয়ে জিও ব্যাগের স্তূপ উপচে তীরবর্তী কৃষিজমিতে পানি প্রবেশ করেছে। ওই সব এলাকার বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ফান্দেরচরের বাসিন্দা জামিউল ইসলাম বলেন, গ্রামের বেশির ভাগ বসতভিটা উঁচু। তাঁদের বাড়িঘরে পানি ঢোকেনি। ৩০-৪০টি পরিবারের বসতভিটায় পানি ঢুকছে। আজ সকাল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।

পাউবো বলছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির প্রায় ৩০০ মিটার অংশের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ওই অংশে বাঁধ না থাকায় পানি উপচে তীরবর্তী কৃষিজমিতে প্রবেশ করেছে।

পানি বেড়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি, তিলাই, চর ভূরুঙ্গামারী, পাইকেরছড়া, সোনাহাট ও আন্ধারিরঝাড় ইউনিয়ন এবং নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙা, কেদার, বল্লবেরখাস ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকার নিম্নাঞ্চলের আমন বীজতলা, পাট ও সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। সদর ও রৌমারী উপজেলাতেও বেশ কিছু বীজতলা, পাট ও সবজিখেত নিমজ্জিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় ৪৬ হেক্টর সবজিখেত, ৩৬ হেক্টর আমন বীজতলা ও ৮৪ হেক্টর পাটখেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বীজতলা ও সবজি নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকদের নতুন করে বীজতলা তৈরি এবং সবজি চাষের উদ্যোগ নিতে বলছে কৃষি বিভাগ। একই সঙ্গে খেতের পানি নেমে গেলে পরিপক্ব পাট কেটে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কিছু বীজতলা ও সবজি নষ্ট হয়ে যাবে। এগুলো আবার নতুন করে লাগাতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়া হবে।’

পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘নদ-নদীর পানি কমছে। সব নদীতেই ভাঙন রয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনবসতিপূর্ণ এলাকা গুরুত্ব দিয়ে প্রতিরক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।’