নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদকবিরোধী র্যালি করায় ইমাম হাসান নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাতে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়াও ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগ উঠেছে। আহত যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত যুবকের বড় ভাই নাজিমউদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার কাবিলগঞ্জ এলাকায় গত বুধবার বিকেলে মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ইমাম হাসানের নেতৃত্বে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের করে। র্যালিতে ওই এলাকার যুব সমাজসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। র্যালি বন্ধ করার জন্য কাবিলগঞ্জ এলাকায় আলী আহাম্মদের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া ইমাম হাসানকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। হুমকি উপেক্ষা করে ইমাম হাসান গত বুধবার বিকেলে ওই এলাকার লোকজন মিলে মাদক বিরোধী র্যালি বের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ী মিন্টুর নেতৃত্বে তিশা মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, সজিব মিয়া, নেয়াব হোসেনসহ ৭-৮ জনের একটি দল রাত দেড়টার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা চলাকালে একই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছাদে লোকজন দেখে ৩-৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ছাদে থাকা লোকজন প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন।
পরে ইমাম হাসানকে একা পেয়ে লোহার রড, হকিস্টিক, রামদা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে তাঁকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। তারা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ইমাম হাসানের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতের বড় ভাই নাজিমউদ্দিন জানান, কাবিলগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মিন্টুর নেতৃত্বে মাদক বিক্রি ও মাদক সেবন করে এলাকার যুব সমাজকে নষ্ট করছে। সম্প্রতি তাঁর ভাই মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন নিয়ে স্বেচ্ছার হোন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিন্টু ও তাঁর লোকজন তাঁর ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ৩-৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছে। মিন্টুর বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযুক্ত মিন্টুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে নিয়মিত মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








