সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুবিন খান গৌরব (শাতিম মুবিন) নামে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। তিনি কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

বিক্ষোভ মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় তারা ‘শাতিম মুবিনের ছাত্রত্ব বাতিল করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে’, ‘নবী অবমাননার বিচার চাই, শাতিমের ফাঁসি চাই’, ‘বিশ্বনবীর অপমানে যদি না কাঁদে তোমার মন, মুসলিম না মুনাফিক তুই নবীজির দুশমন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দাবিসংবলিত পোস্টারও প্রদর্শন করেন তারা।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম বলেন, “মুবিন খান গৌরব একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে রাসুল (সা.) কে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। পরবর্তীতে সে হল থেকে চলে গেছে। আমরা তার উপযুক্ত শাস্তি এবং ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে আজ প্রক্টরিয়াল কার্যালয়ে এসেছিলাম। কিন্তু, আজ আমরা স্যারকে পাইনি। আমরা আগামীকাল আবারও প্রক্টরিয়াল কার্যালয়ে আসব এবং আমাদের দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরব।”

আরেক শিক্ষার্থী মো. মাহাদী বলেন, “শিক্ষার্থী মুনিব খান গৌরব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। এটি আমাদের প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কারণ হয়েছে। প্রতিবাদস্বরূপ আমরা বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছি। তার বিরুদ্ধে হলের বিভিন্ন নিয়মকানুন ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে বলে আমরা শুনেছি। বর্তমানে তিনি পলাতক।”

আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা প্রক্টরিয়াল বডির কাছে তার ছাত্রত্ব বাতিলসহ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আমরা আইনের প্রতি আস্থাশীল। তাকে খুঁজে বের করে যথাযোগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা করি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।

এদিকে হল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট ওই শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি হল ত্যাগ করেছেন বলেও জানা যায়।