নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হবে। আর এটি চালু হলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রায় ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণ ক্ষমতার কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং প্রায় ১ লাখ ডেডওয়েট টন ধারণ ক্ষমতার মালবাহী জাহাজ সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে। এর ফলে সিঙ্গাপুর, কলম্বো ও পোর্ট ক্লাংসহ বিদেশি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে আমদানি-রপ্তানিতে সময় ও অতিরিক্ত ব্যয় হ্রাস পাবে এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্রবন্দরগুলোতে গভীরতার সীমাবদ্ধতা থাকায় বড় মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারে না। ফলে অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য সিঙ্গাপুর, কলম্বো, মালয়েশিয়াসহ আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে খালাস করে সেখান থেকে ফিডার ভেসেলে বাংলাদেশে আনতে হয়। এতে প্রতি চালানে অতিরিক্ত ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যয়, পরিবহণ সময় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে প্রায় ১৬ মিটার গভীরতার নৌ-চ্যানেল এবং আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত জাহাজের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ধারণ ক্ষমতার জাহাজ সরাসরি বার্থিং নিতে পারবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ : মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি শিপিং চালুর উদ্যোগ, জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস ও ডেলিভারি কার্যক্রমের ৮০ শতাংশ ডিজিটালাইজেশন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনা এবং বে-টার্মিনাল নির্মাণ উল্লেখযোগ্য। যশোর-৪ আসনের মো. গোলাম রসুলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নদীবন্দর সচল ও ভৈরব নদের নাব্য সংকট স্থায়ীভাবে দূর করতে আধুনিক প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
বর্তমানে এ সংক্রান্ত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তিনি জানান, নৌপথের ভৈরব নদীতে ইতোমধ্যে ড্রেজিং সম্পন্ন করে মূল চ্যানেল থেকে পলি অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই রুটে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে নৌযান চলাচল করছে। পাশাপাশি নওয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকার বিভিন্ন ঘাটের নাব্য সংকট চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
লালদিয়াচর টার্মিনালের চুক্তি বাতিল : লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাহাদাত হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়াচর কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের (এপিএম টার্মিনালস) সঙ্গে করা কনসেশন চুক্তি বাতিল বা পুনঃচুক্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তিনি বলেন, পিপিপি আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের জিটুজি কাঠামোর আওতায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ ৩৩ বছর, যার মধ্যে তিন বছর নির্মাণকাল এবং ৩০ বছর পরিচালনাকাল। পরে আরও ১৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দরের খালি জায়গায় নির্মিতব্য এ টার্মিনালে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এর ফলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।








