ছোটবেলা থেকেই সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী ছিলেন যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে তিনি সফলতার উচ্চ শিখরে উঠেছিলেন। তিনি ছিলেন শিল্প খাতের একজন অনন্য সফল উদ্যোক্তা। যে ক্ষেত্রেই হাত দিয়েছেন সেখানেই ফলেছে সোনা। সোমবার দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বর্ধনপাড়ায় নুরুল ইসলামের স্মরণসভায় এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এ সময় মিলাদ, দোয়া ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় দেশের শিল্প খাতের অগ্রদূত এই উদ্যোক্তাকে। একইসঙ্গে গতকাল দোহার নবাবগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের প্রায় সব এতিমখানা ও মাদ্রাসায় নুরুল ইসলামের স্মরণে দোয়া ও মুনাজাতের আয়োজন করা হয়।

স্মরণসভায় মরহুমের বাল্যকালের স্কুল বন্ধু আনোয়ার মোড়ল বলেন, নুরুল ইসলাম কখনোই পরাজয়কে মেনে নিতে পারেননি। একবার স্কুলে হাডুডু খেলার আয়োজন করেছিল কর্তৃপক্ষ। তখন নুরুল ইসলাম সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম রাউন্ডে হেরে গেলেও সাহস ও আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে পরবর্তী দুই রাউন্ডে চ্যাম্পিয়ন হন।

স্থানীয় টিপু মিয়া, খলীলুর রহমান, এমএ মজিদ ও আয়নাল চৌধুরী বলেন, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ছিলেন দেশের শিল্প খাতের একজন অনন্য ও সফল উদ্যোক্তা। তিনি সৃষ্টি করেছেন লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, ‘অনেক উদ্যোক্তাকে দেখেছি ট্রেড বেজড ব্যবসা করতে, তারা শিল্পে যেতে চাইতেন না। এ ক্ষেত্রে নুরুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি ট্রেড নয়, সরাসরি শিল্পে প্রবেশ করেছেন। এতে দেশে অনেক কর্মসংস্থান হয়েছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে তিনি এক টাকা ঋণখেলাপি হননি। অথচ অনেক ছোট উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেননি। এ কারণে আজ বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণে ডুবতে বসেছে দেশের ব্যাংকিং খাত।’ তারা বলেন, ‘নুরুল ইসলাম শুধু নিজে খেলাপিমুক্ত ছিলেন ব্যাপারটা এমন নয়। তিনি একাধারে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণের ঘোর বিরোধী ছিলেন। কোনো দুর্নীতিবাজের সঙ্গে সমঝোতা করেননি।