প্রায় পাঁচ মাস পর চালু হয়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। আপাতত প্রতি শুক্র ও শনিবার সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে শেরপুর ও ময়মনসিংহে রোগী পরিবহন করা হবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জুনায়েদ আব্দুল কাইয়ুম।

চালকের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় পাঁচ মাস ধরে অচল ছিল। ফলে জরুরি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠাতে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল ‘নালিতাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: তিন মাস ধরে চালক নেই, অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধে ভোগান্তি’ শিরোনামে আজকের পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটির চালক গত ডিসেম্বর মাসে অবসরে যান। জনবলসংকটের কারণে তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে চালকের পদে কেউ যোগ না দেওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা পরিষদ ও জাইকা প্রকল্পের একটি বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নির্দিষ্ট চালক না থাকায় সেটিও নিয়মিতভাবে চালানো সম্ভব হয়নি।

প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যার নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জরুরি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠাতে রোগী ও তাদের স্বজনদের অতিরিক্ত সময়, খরচ ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

গত কয়েক মাসে একাধিক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অতিরিক্ত খরচে ভাড়া করা গাড়িতে রোগীদের শেরপুর কিংবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হয়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি ও গুরুতর আহত রোগীদের দ্রুত স্থানান্তর করা না যাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

ডা. জুনায়েদ আব্দুল কাইয়ুম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘চালকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য ছিল। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত সিভিল সার্জন স্যারের আউটসোর্সিং চালক প্রতি শুক্র ও শনিবার আমাদের অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা করবেন। তাঁকে নিয়মিতভাবে এ সেবায় রাখার বিষয়ে চেষ্টা চলছে। স্থায়ীভাবে চালক নিয়োগ হলে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।’