দুবছরেরও বেশি সময় আগে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ লুকিয়ে রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ করার ঘটনায় গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলাটি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

৮ জুলাই স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত অভিযোগনামার মাধ্যমে বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ অবৈধভাবে মজুত করে নষ্ট করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড অসদাচরণ হিসাবে গণ্য হওয়ায় ডা. মামুনুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি কোয়ার্টার ভবনের নিচতলার পরিত্যক্ত অংশের পাঁচটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছে। রোগীদের মধ্যে সময়মতো বিতরণ না করায় সেসব ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একই ভবনের আরও দুটি কক্ষে হাসপাতালের জন্য কেনা বিভিন্ন সরঞ্জামও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল।

এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে। তদন্তে সরকারি ওষুধ অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, যেসব ওষুধ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো বছরের পর বছর গুদামজাত অবস্থায় পড়ে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। ফলে একদিকে সরকারের বিপুল পরিমাণ সম্পদের অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন হাজারো রোগী।