রাজশাহীর পদ্মা নদীর তালাইমারী এলাকায় গোসল করতে যাওয়া রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তিন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহতরা চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি বোয়ালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মীর সজিব, আশিকুর রহমান ও আজমাইন পদ্মা নদীর তালাইমারী এলাকায় গোসল করতে যান।
প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে নদীর তীরে এক কিশোরকে মাছ ধরার জাল টানতে দেখে তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে যান তারা। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের কাপড় রাখা ব্যাগ তল্লাশি করতে শুরু করেন এবং তাদের ডাক দেন। বিষয়টি জানতে গেলে কোনো ধরনের বাকবিতণ্ডা ছাড়াই মীর সজিবকে মারধর শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সজিবকে রক্ষা করতে গেলে আশিকুর রহমান ও আজমাইনকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আরো ৮ থেকে ১০ জন ঘটনাস্থলে এসে হামলায় অংশ নেন। এতে তিনজনই আহত হন। সজিব ও আশিকুর কোনোভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও আজমাইন কিছু সময় ঘটনাস্থলেই আটকে ছিলেন।
পরে আশিকুর রহমান প্রথমে মতিহার থানায় গেলে ঘটনাস্থল বোয়ালিয়া থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় তাকে সেখানে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সময়ে মীর সজিব রুয়েটে ফিরে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম সরকারকে বিষয়টি জানান। তার উদ্যোগে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পরবর্তীতে আহত তিন শিক্ষার্থী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে বোয়ালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ‘লাম’ ও ‘জিম’ নামে দুই ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরো ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযুক্তদের একজনের বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে আগেও অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
হামলায় আহত আশিকুর রহমান এক কানে শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। মীর সজিবের চোখের নিচে আঘাত লেগেছে এবং আজমাইনের হাতে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এছাড়া, তিনজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় রুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।








