বাংলা একাডেমির উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে মোহাম্মদ তসলিম উদ্‌দীনের গবেষণাগ্রন্থ ‘চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জাতিসত্তা: লোকজীবন ও লোকসংস্কৃতি’। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন নাজিব তারেক।

৪৩২ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৭৬০ টাকা। বইটি প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। বইটি পাওয়া যাচ্ছে বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রে।

বাংলা একাডেমি জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জাতিসত্তা যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করছে। ‘চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জাতিসত্তা: লোকজীবন ও লোকসংস্কৃতি’ বইটি এই তিন জাতিসত্তার লোকজীবন ও লোকসংস্কৃতির তুলনামূলক চিত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপন।

আরও পড়ুন

পাওয়া যাচ্ছে ‘উত্তরাধিকার’ ও ‘ধানশালিকের দেশ’

এ গ্রন্থে দৈহিক নৃতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্ব, অর্থনৈতিক নৃতত্ত্ব, ক্ল্যান, ভাষাতত্ত্ব, লোকজীবন, লোকবিশ্বাস, লোকসংস্কার, জুমচাষ, শিকার-ফাঁদ, ঐতিহ্যগত চিকিৎসা, প্রথাসিদ্ধ আইন প্রভৃতি বিষয় আলোচিত হয়েছে। ভাষাবিষয়ক আলোচনায় আইপিএ-র ব্যবহার করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা না-জানা বাংলাভাষির পক্ষে এদের সমাজ-সংস্কৃতি জানার সুযোগ সীমিত। সে ক্ষেত্রে কেবল ইংরেজি লেখাই ছিল ভরসা। সম্প্রতি বাংলা ভাষায় রচনা-গবেষণা প্রকাশের কারণে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং বাংলাভাষির মধ্যে একধরনের সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। ফলে উভয়ের মধ্যে দূরত্বও ক্রমশ কমে আসছে। এই সম্পর্ক-সেতু একটি দেশের ঐক্য-সংহতি বৃদ্ধির কাজে সহায়ক হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন

পাওয়া যাচ্ছে হুমায়ুন কবিরের ‘বাঙলা উপন্যাস’

ব্রিটিশ ও বহিরাগত গবেষকদের সাংস্কৃতিক-নৃতাত্ত্বিক রচনায় এদেশীয় ক্ষুদ্র জাতিসত্তা কেবলই প্রান্তিক। অন্যদিকে জাতিসত্তার লেখনী তুলে ধরে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও আত্মপরিচয়ের বোধ। এই দুই পরস্পর-বিচ্ছিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থানের মধ্যবর্তী সংযোগক্ষেত্র হিসেবে বাংলাভাষি স্বদেশি গবেষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ সমন্বিত গবেষণা-পরিসরে সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে গ্রন্থটি বিবেচিত হতে পারে।

এসইউ