৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাডার পদে তিন হাজার ৪৮৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৬৬৩টি। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে মাত্র এক হাজার ৩০২ জন প্রার্থীকে এই বিসিএসে নিয়োগে সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বাকি দুই হাজার ৩৪৩টি ক্যাডার পদে নিয়োগে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ এ বিসিএসে তিন লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন।
রোববার (২৮ জুন) ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে পিএসসি। তাতে মোট এক হাজার ৫২১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। তার মধ্যে ক্যাডার পদে এক হাজার ৩০২ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১ জন মনোনীত হয়েছেন।
ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসি জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্যাডারে মোট তিন হাজার ৬৬৩টি শূন্য পদের বিপরীতে এক হাজার ৩২০ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। কয়েকটি কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় বিভিন্ন ক্যাডারে দুই হাজার ৩৪৩টি পদে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন
৪৭তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ১৫২১ জনকে নিয়োগে সুপারিশ
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পিএসসির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারে যোগ্য লোকবল পাওয়া যায় না। সবাই সাধারণ ক্যাডারে আবেদন করেন, সেখানে যেতে চান। বিগত কয়েকটি বিসিএসের ফল খেয়াল করলে দেখবেন এ ধরনের সংকট আগে থেকেই চলে আসছে। এটি ক্রমে আরও বাড়ছে। এবার খুব বেশি সংকট দেখা যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা লাখে লাখে গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছি। কিন্তু এক্সপার্ট তৈরি হচ্ছে না যে, বিশেষ কাজের যেসব ক্ষেত্র সেখানে ওই ব্যাকগ্রাউন্ডের গ্র্যাজুয়েট নেই। অথবা প্রাথমিক আবেদনে হয়তো তারা থাকেন, কিন্তু প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষা উতরে আসতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে পিএসসিও উদ্বিগ্ন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে হয়তো নির্দেশনা চাওয়া হতে পারে।’
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রিলির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাস করেন ১০ হাজার ৬৪৪ জন।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাস করেন ৩ হাজার ৬৩১ জন। তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তাদের মধ্যে এক হাজার ৩০২ জনকে ক্যাডার ও ২০১ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
এএএইচ/ইএ








