গত ৪ জুলাই বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পর্যটনকেন্দ্র অমিয়াখুম ভ্রমণে যাওয়ার উদ্দেশে থুইসাপাড়ায় যান চার পর্যটক। ৭ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীপথ অচল হয়ে পড়লে তারা সেখানে আটকা পড়েন।

ফেরার সব পথ যখন একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল তখন থানচির দুর্গম থুইসাপাড়া থেকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জিং উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৈরী আবহাওয়াজনিত কারণে ওই পাহাড়ি জনপদে আটকা পড়েছিলেন ঢাকা থেকে যাওয়া ওই চার পর্যটক।

ওই চার পর্যটককে নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিজিবি।

উদ্ধার পর্যটকরা হলেন, ঢাকার শ্যামপুর থানার বাসিন্দা মাহাদি আল মাহবুব, সূত্রাপুর থানার বাসিন্দা মারুফ উদ্দিন, আবু হুরায়রা জাদিম এবং একই থানার বাসিন্দা ও ঢাকার নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী তামিম রায়হান সৌরভ। মাহাদি আল মাহবুব, মারুফ উদ্দিন, আবু হুরায়রা জাদিম তিনজনই চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

আরও পড়ুন

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন, বান্দরবানে উদ্ধার ৬০০ মানুষ

বিজিবি জানিয়েছে, গত ৪ জুলাই বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পর্যটনকেন্দ্র অমিয়াখুম ভ্রমণে যাওয়ার উদ্দেশে থুইসাপাড়ায় যান ওই চার পর্যটক। ৭ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীপথ অচল হয়ে পড়লে তারা সেখানে আটকা পড়েন।

সংবাদ পাওয়ার পর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বিজিবির বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) জিন্নাপাড়া ক্যাম্প থেকে বিজিবির একটি আভিযানিক দল থুইসাপাড়ায় যান। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীপথে থানচিতে ফিরে আসা তখন সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বিজিবি বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়াত জামিল বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব। যে কোনো দুর্যোগ, দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থেকে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দিতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, সারাদেশে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১১ জুলাই বিজিবি থুইসাপাড়া থেকে চার পর্যটককে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিজিবির আভিযানিক দল থুইসাপাড়া থেকে চার পর্যটককে সঙ্গে নিয়ে বিকল্প পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে থুইসাপাড়া-জিন্নাপাড়া-হালিরামপাড়া-নিকোলাসপাড়া অতিক্রম করে দুর্গম ঝিরি ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে অংসাউপাড়া এলাকায় পৌঁছায়।

সেখানে বিজিবির তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের নিরাপদে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়। অতি দুর্গম পাহাড়ি পথ, একাধিক পাহাড়ধস, ঝিরিতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত ও দিনব্যাপী বৃষ্টিপাতের কারণে ওইদিন সীমান্ত সড়ক পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন

পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের ২৯ ইউনিয়ন প্লাবিত

ফলে রোববার (১২ জুলাই) অংসাউপাড়া বিজিবি ক্যাম্প থেকে বিজিবির আরেকটি দল পর্যটকদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ি পথ ও ঝিরি অতিক্রম করে সীমান্ত সড়ক সংলগ্ন নেপিউপাড়া বিওপিতে পৌঁছায়। পরে বিজিবির যানবাহনে করে নিরাপদে তাদের থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়।

উদ্ধার পর্যটকরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে থুইসাপাড়ায় আটকা পড়ার পর বিজিবি শুরু থেকেই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়েছে। অত্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে বিজিবি সদস্যরা তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে থানচিতে ফিরিয়ে এনেছে। তারা বিজিবির পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বিজিবি সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এমডিআইএইচ/এমকেআর