স্পেনকে হারাতে পারলে দিদিয়ের দেশমের দল টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে। এমনটা হলে আধুনিক ফুটবলে তাদের ধারাবাহিক আধিপত্যের আরেকটি প্রমাণ মিলবে। ফ্রান্সের শক্তি-গতি ও বিধ্বংসী পালটা আক্রমণ। তবে ফরাসিদের সবচেয়ে বড় শক্তি দলের গভীরতা। বিশ্লেষকদের মতে, দেশম চাইলে আরেকটি শক্তিশালী প্রথম একাদশ মাঠে নামাতে পারেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের নেতৃত্বে ফ্রান্স ইতোমধ্যে ১৬ গোল করেছে। এই গোলসংখ্যা সেমিফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনার সমান সর্বোচ্চ। প্যারাগুয়ে ও মরক্কোর বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতি সামলে জয়ের মধ্যদিয়ে তারা মানসিক দৃঢ়তারও পরিচয় দিয়েছে। দূরপাল্লার শট ফ্রান্সের আরেকটি বড় অস্ত্র। তাদের ১৬ গোলের ছয়টিই এসেছে বক্সের বাইরে থেকে।

তবে কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। প্রতিপক্ষের দৃঢ় রক্ষণভাগের বিপক্ষে অনেক সময় ফ্রান্সের আক্রমণে ধারাবাহিকতা থাকে না। তখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ভর করে এমবাপ্পে কিংবা অন্য কোনো তারকার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর। দ্রুত পাসিং ও বল দখলনির্ভর দলের বিপক্ষে তাদের মিডফিল্ডও মাঝে মাঝে চাপে পড়ে, যা রক্ষণভাগের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। তাদের রক্ষণভাগও বড় শক্তির দলের কাছে কিছুটা দুর্বল।

এদিকে স্পেন টেকনিক্যালি টুর্নামেন্টের অন্যতম দক্ষ দল। শুরুটা ধীরগতির হলেও সময়ের সঙ্গে নিজেদের আরও পরিণত করেছে লা রোহারা। স্পেনের শক্তি বল দখল, কারিগরি দক্ষতা ও শৃঙ্খলিত রক্ষণ। বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করাই তাদের প্রধান শক্তি। রদ্রি ও পেদ্রির মতো মিডফিল্ডাররা খেলার ছন্দ ঠিক রাখেন। আর লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস উইং দিয়ে আক্রমণে গতি আনেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেনের রক্ষণভাগ তাদের সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাস।