আটলান্টা, গুয়াদালাহারা, ডালাস, লস অ্যাঞ্জেলেস ঘুরে আবার ডালাসে ফিরতে নয় হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে স্পেন দলকে। ডালাসেই আজ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে তারা। ছয়টি ম্যাচ খেলতে নয় হাজার মাইল ভ্রমণের ধকল অবশ্য স্পেনের কাছে মধুরই লাগছে। বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের মঞ্চে ফিরতে যে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ১৬ বছর। ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথমবার সেমিতে ওঠার পর শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লা রোহারা। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পে থাকা ১৪ বছরের এক স্প্যানিশ কিশোর টিভিতে দেখেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায় ইকার ক্যাসিয়াসদের শিরোপা উৎসব। ১৬ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরা সেই ছেলেটির সামনে এখন ক্যাসিয়াসের পর স্পেনের দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসাবে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার হাতছানি। রদ্রির স্বপ্নপূরণের জন্য আর দুটি ম্যাচ জিততে হবে স্পেনকে।

আজ ফ্রান্সকে হারাতে পারলে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্পেন। তবে ফ্রান্সের মতো প্রবল প্রতিপক্ষ সামনে থাকায় বেশি দূরে তাকাচ্ছেন না স্পেন অধিনায়ক রদ্রি, ‘ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে জমজমাট লড়াই হবে। দুদলের খেলার ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু ওসব নিয়ে না ভেবে নিজেদের ম্যাচেই পুরো মনোযোগ দেওয়া উচিত আমার। ফ্রান্স এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল। দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে ওরা। স্পেনও তাই। অবশ্যই ওদের হারাতেও পারি আমরা। ইউরো ও নেশন্স লিগে সেটা করে দেখিয়েছি।’ ২০২৪ ইউরো ও ২০২৫ নেশন্স লিগের সেমিফাইনালের পাশাপাশি ২০২৪ অলিম্পিক ফুটবলের ফাইনালেও ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। ম্যানসিটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও স্পেনের হয়ে ইউরো জেতার পর ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর উঠেছিল রদ্রির হাতে। ৩০ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডার এবার হতে চান বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। বলেছেন, ‘ফুটবলারদের জন্য বিশ্বকাপই অর্জনের সর্বোচ্চ চূড়া। জীবনে এমন সুযোগ হয়তো একবারই আসে। কিন্তু আপনাকে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। আমাদের সামনের চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে কঠিন। ফ্রান্সের ক্ষুরধার আক্রমণভাগ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আমি বলব, তাদের রক্ষণও শক্তিশালী। নেশন্স লিগের মতো উন্মুক্ত লড়াই হয়তো হবে না। এটা বিশ্বকাপ। সেরা ছন্দে থাকা ফ্রান্সকে থামাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে হবে। এটাই আসল চ্যালেঞ্জ।’ ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো জয়ের পথে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। সেই দলে ছিলেন বর্তমান জাতীয় দলের তিন নক্ষত্র রদ্রি, মিকেল মেরিনো ও উনাই সিমোন এবং কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। স্পেনের বর্তমান ঘরানার ফুটবলের যাত্রা সেখান থেকেই শুরু বলে মনে করেন রদ্রি, ‘আমরা এখন যে গাছ দেখছি, তার বীজ বোনা হয়েছিল ২০১৫ সালে। লুইস আমাদের খেলার ধরন একই রেখেছেন।’

সেমিফাইনালে যেভাবে স্পেন

গ্রুপপর্ব

স্পেন ০ : ০ কেপ ভার্দে

স্পেন ৪ : ০ সৌদি আরব

স্পেন ১ : ০ উরুগুয়ে

শেষ ৩২

স্পেন ৩ : ০ অস্ট্রিয়া

শেষ ১৬

স্পেন ১ : ০ পর্তুগাল

কোয়ার্টার ফাইনাল

স্পেন ২ : ১ বেলজিয়াম