বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল শেষে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসার আর্জিনা খাতুনের হাতে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্রে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মো. মাহদী হাসান অনিক।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর শিক্ষামন্ত্রীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নির্দেশে পুলিশ হামলা চালায় এবং আন্দোলনকারীদের গালিগালাজ করে। এতে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে নতুন কারিকুলাম ও সাম্প্রতিক শিক্ষা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণেও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহানগর কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে অভিযোগ দাখিলকারী শিক্ষার্থী মাহদী হাসান অনিক বলেন, ঢাকায় সংসদ ভবনের সামনে আমাদের অনেক শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশি হামলা চালানো হয়েছে। তাদের বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করা হয়েছে যেটা একদম মেনে নেওয়ার মতো না। তারই প্রেক্ষিতে আজকে আমাদের একটা প্রোগ্রাম ছিল। আমরা চেয়েছিলাম টাউন হল থেকে প্রোগ্রাম থানা অব্দি আসব। আসার পরে মামলার বিষয়ে কথা বলব। যেহেতু দেশে আইন আছে, তাই আমরা জনদুর্ভোগ এড়াতে আইনের মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধান করতে চাচ্ছিলাম। থানায় কথা বলেছি, তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমাদের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলে দেখবেন। প্রথমত আমরা মামলা দিলাম না। অভিযোগ আকারে দাখিল করলাম। তিনি আমাদের সঙ্গে আবার বসতে চেয়েছেন।

মাহদী হাসান অনিক আরও বলেন, আমরা ঢাকার শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা যেভাবে প্রোগ্রাম দেবে। আমরাও সেভাবে প্রোগ্রাম এগিয়ে নেব। কোনো রাজনৈতিক দল আমাদের সঙ্গে থাকবে না।

রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীরা থানায় এসেছিল এবং আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। পরে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার কথা শুনেছি।