রাজশাহীর পুঠিয়ায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি ভাঙায় রসিদ ছাড়াই আদায় করা ক্ষতিপূরণের ৩২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ উঠেছে পুঠিয়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসানুল করিম ও উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদ আলীর বিরুদ্ধে। শনিবার ভোরে পুঠিয়া পৌরসভার পালোপাড়া গোরস্থানের পাশে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ভোরে গোরস্থানের পাশে কাটাখালি এলাকার ইউনুস আলীর একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ঘোরানোর সময় পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায়। এ সময় পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে। খবর পেয়ে বিদ্যুতের টেকনিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদ আলী।
ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রথমে ৬৭ টাকা দাবি করলেও একপর্যায়ে ৪৭ হাজার টাকায় উভয়পক্ষ সম্মত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরে ট্রাকের মালিক ইউনুস আলী প্রকৌশলী আসাদকে রসিদ লাগবে না জানিয়ে টাকা কমানোর প্রস্তাব দেন। এরপর প্রকৌশলী আসাদ ডিজিএম আহসানুল করিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলে কোনো রসিদ ছাড়াই ৩২ হাজার টাকায় রফাদফা করেন।
বিষয়টি স্বীকার করে ট্রাকের মালিক ইউনুস আলী বলেন, ‘ট্রাকের ধাক্কায় পোল ভেঙে যাওয়ায় বিপদে পড়েছিলাম। সে সময় পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ৩২ হাজার টাকা নিয়ে ট্রাকটি ছেড়ে দিয়েছে।’
রসিদ ছাড়া ক্ষতিপূরণ আদায় ও আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে প্রকৌশলী আসাদ আলী বলেন, ‘অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা জরুরিভিত্তিতে খুঁটি স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছি। শনিবার দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আদায়কৃত অর্থের ভাউচার দেওয়া সম্ভব হয়নি।’ তবে রোব ও সোমবার অফিস খোলা থাকলেও ভাউচার কেন দেওয়া হয়নি, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ট্রাক মালিক আসেননি।’
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ডিজিএম আহসানুল করিমকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ?তবে নাটোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফখরুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। এখন খোঁজ নেওয়ার পর তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








