চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচিতে এক পরীক্ষা থেকে আরেক পরীক্ষার মধ্যে সময় (গ্যাপ) কম। এ নিয়ে শুরু থেকেই অভিযোগ করেন আসছেন পরীক্ষার্থীরা। এবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে সরাসরি রুটিন বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন এক পরীক্ষার্থী।

মোবাইলে কথোপকথনে ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন, তুলনামূলক কঠিন বিষয়গুলোর আগে একদিন মাত্র ছুটি রাখা হয়েছে। এতে তাদের প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছে। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সকাল-বিকাল পরীক্ষা নেওয়ার আলাপ চলছিল। যেভাবে তিনি ছাত্রজীবনে পরীক্ষা দিয়েছেন। পরীক্ষার্থীদের কষ্ট হবে ভেবে তিনিই অনুরোধ করে একদিন পরপর পরীক্ষা রাখার ব্যবস্থা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিটি কলেজের একজন ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথা হয়। ওই ছাত্রীর অভিভাবক মন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। রোববার (১২ জুলাই) রাতে এ কথোপকথন হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

‌‘মিলন সাহেব এত অভিশাপ কই রাখবেন’, প্রশ্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর

মূলত মেয়েকে অভয় দিতে ওই ছাত্রীর অভিভাবক অনুরোধ করে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলানোর ব্যবস্থা করেন। কথা বলার সময় অন্য আরেকটি মোবাইল ফোন দিয়ে তা ভিডিও করা হয়। সেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে।

কথপোকথনের একপর্যায়ে পরীক্ষার রুটিন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন সিটি কলেজের ওই ছাত্রী। তিনি বলেন, ‘উচ্চতর দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার আগে একদিন ছুটি। এত চ্যাপ্টার...মাঝে একদিন মাত্র ছুটি। সেটা কি হয় স্যার? একদিনে কি এতগুলো চ্যাপ্টার রিভাইস করা পসিবল স্যার? ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের মতো বিষয়ে...যেখানে ১১টা চ্যাপ্টার স্যার। কীভাবে সম্ভব?’

জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি তোমাকে বলি, তোমাদের স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে কথা বলে রুটিন দিয়েছি। তারপরও বলেছি, যদি এ রুটিন গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে আমি চেঞ্জ করবো। কিন্তু কেউ তো আমাকে কোনো রেসপন্স করেনি।’

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এমনিতেই তো রুটিন করা হচ্ছিল যে সকাল-বিকাল পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত শেষ করা হবে। যেটা আমরাও ছাত্রজীবনে দিয়েছি। তখন আমি বললাম যে, এটা সম্ভব না। ওরা পারবে না, কষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত একদিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হোক। সেটাই এখন নেওয়া হচ্ছে। আমি সবকিছু চিন্তাভাবনা করেই করেছি।’

‘এগুলো বলে আর লাভ হবে না। বিকাল ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। নো বডি একসেপ্ট মি, যে পরীক্ষা পেছানোর ব্যাপারে। তুমি তো সিটি কলেজ। চিন্তা কইরো না তো। এখন গরম এক কাপ কফি দিতে বলো, খেয়ে পড়তে বসে যাও।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি কল রিসিভ করেননি।

এএএইচ/এমআরএম