কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গোখরা সাপের কামড়ে আহত সাপুড়িয়া ইমরান হোসেন (৩৮) পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না নিয়েই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আজ রোববার সকালে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইমরান হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, `আমি এখন সুস্থ আছি। চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে এসেছি।'

পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না নিয়ে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলেন, `সাংবাদিকরা খুব জ্বালাচ্ছিল। রাত-দিন নেই, এসেই একই প্রশ্ন করছিল। কেউ কেউ আবার আমাকে ভণ্ড প্রমাণের চেষ্টাও করছে। তাই লজ্জায় হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে এসেছি।'

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান আজকের পত্রিকাকে জানান, গতকাল শনিবার রাতেই ইমরান কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে ছুটির আবেদন করেছিলেন। আজ সকালে আবারও ছাড়পত্র চাইলে প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ডা. ইকবাল হাসান বলেন, `বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে হাসপাতাল ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একজন সাপুড়িয়া হয়ে সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা তাঁর কাছে লজ্জাজনক মনে হচ্ছে।'

সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় একটি বসতবাড়ি থেকে গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হন ইমরান। তিনি উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্থান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে। সাপ ধরার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাপে কাটা রোগীদের বিষ ঝাড়াসহ নানা ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।