রাজশাহীর বাগমারায় সৈনিক লীগের এক নেতাসহ ৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের মাঝিগ্রামে আট বছর এই জমি তারা দখলে রেখেছেন। বর্তমানে জমি উদ্ধার না করেই পাশের সড়কটি পাকা করার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা যায়, এর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের জমি দখলমুক্ত না করেই সড়কটিতে ইটের সলিং (হেরিংবোন) করা হয়। অনুমোদিত নকশা এবং ও মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী সড়কটি সোজা হওয়ার কথা। কিন্তু বাগমারা উপজেলা সৈনিক লীগের সভাপতি জোবায়েদ হোসেনসহ আরও দুই ব্যক্তির ক্ষমতার দাপটে ইতিপূর্বে সড়কটি আঁকাবাঁকা করেই সলিং করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, দখলদারদের উচ্ছেদ না করে সড়কটি পাকা সড়ক করার উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি স্থায়ীভাবে বাঁকা হবে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। বাড়বে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সরকারি সড়কের জমি দখল করে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মাঝিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সৈনিক লীগ নেতা জোবায়েদ ছাড়াও রয়েছেন-একই এলাকার বজলুল ও রেজাউল নামের দুই সহোদর। ২০১৮ সালে উপজেলার তাহির একডালা থেকে পোড়াকয়াহাট পর্যন্ত রাস্তাটি জোবায়েদ হোসেনের বাড়ির প্রাচীর এবং বজলুল ও রেজাউল নামের দুই ভাইয়ের উঠানের পাশ দিয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই তিন ব্যক্তির দখলেই সড়কের জমি রয়েছে। সৈনিক লীগ নেতা জোবায়েদ সেসময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় বজলুল ও রেজাউলকে নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সড়কটি বাঁকা করে সলিং করতে বাধ্য করেন।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় জোবায়েদ তার বাড়ির সামনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এবং ‘জোবায়েদ হোসেন, সভাপতি, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বাগমারা উপজেলা শাখা’ লেখা একটি সাইনবোর্ড টানানো ছিল। সে সময় সড়ক সোজা পথে করার জন্য এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেন।
সরকারি সড়কের জমি দখলের অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্যের জন্য আত্মগোপনে থাকা সৈনিক লীগ নেতা জোবায়েদ হোসেনকে ফোন দেওয়া হয়। তিনি ধরেননি। আর বজলুল ও রেজাউলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে এলজিইডি, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তে ইতোমধ্যে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এখনও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








