সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও আরও বেশি পানি জমে থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
মোটর ও ব্যাটারিতে পানি ঢুকে অনেক ব্যাটারিচালিত রিকশা বিকল হয়ে সড়কেই পড়ে থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে যান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে অনেক রিকশাচালক ফ্লাইওভার ব্যবহার করছেন।
প্রথমবারের মতো ফ্লাইওভারে ওঠে ভুল পথে গিয়ে রিকশা ঘুরাচ্ছেন এক চালক/ছবি: জাগো নিউজ
রোববার (১২ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর শান্তিনগর, মধুবাগ, রাজারবাগ, শাহজাহানপুর, মালিবাগ, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে বিকেল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর পানি জমে থাকতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দারা নালার মুখে আটকে থাকা ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন
জলাবদ্ধ ঢাকা / ব্যাটারি রিকশার কপাল মন্দ, কামাই বেড়েছে প্যাডেল রিকশার
কোমরসমান পানি, নিউমার্কেটে ১০ টাকার ভ্যান সার্ভিস
ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা জানান, জমে থাকা পানির মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে অনেক মোটর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে রিকশা বিকল হয়ে একদিকে যেমন চালকদের দিনের আয় বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে গ্যারেজে মেরামতের অতিরিক্ত খরচের শঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। তাই অনেকে শুধু ফ্লাইওভার ব্যবহার করে যাত্রী পরিবহন করছেন।
জলাবদ্ধতার কারণে বিকল্প পথ হিসেবে এভাবে ফ্লাইওভার ব্যবহার করলেও এজন্য অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হওয়ায় সময় ও ব্যয় দুই-ই বেড়েছে চালক ও যাত্রীদের। তবে অনেক চালকের মতে, বেশি পথ পাড়ি দেওয়ার চেয়ে পানিতে রিকশা বিকল হওয়ার ঝুঁকি এড়ানোই এখন অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
বাইসাইকেল নিয়ে ফ্লাইওভার দিয়ে যাচ্ছেন এক আরোহী/ছবি: জাগো নিউজ
শান্তিনগর ফ্লাইওভারে রিকশা নিয়ে ওঠা চালক হাবিব হোসেন বলেন, ‘সকালে আমার এক সহকর্মী মধুবাগ গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে বের হয়েছিল। শান্তিনগর ফ্লাইওভারের নিচে পানি পার হতে গিয়ে মোটরে পানি ঢুকে রিকশা বন্ধ হয়ে যায়। পরে সে রিকশা গ্যারেজে জমা দিয়ে বসে আছে। আজ আর কোনো ভাড়া করতে পারেনি। আমি তাই সড়ক এড়িয়ে ফ্লাইওভার ব্যবহার করছি। একটু ঘুরতে হচ্ছে, চার্জও বেশি লাগছে; কিন্তু রিকশা অন্তত নষ্ট হবে না। যাত্রীকেও গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারবো।’
আরেক চালক বিজয় দাস বলেন, ‘শান্তিনগর, রাজারবাগ ও শাহজাহানপুর এলাকায় অনেক রিকশা পানিতে বিকল হয়ে গেছে। তাই আমি ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করছি। পথ একটু বেশি হলেও পানির ঝুঁকি নেই।’
আরও পড়ুন
বাদলা দিনে থমকে পুরান ঢাকা, ভোগান্তিতে নগরজীবন
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ ঢাকা, বিপর্যস্ত জনজীবন
মো. সোহেল মিয়া নামের এক চালক বলেন, ‘সড়কে এত পানি যে কোথায় গর্ত, কোথায় রাস্তা বোঝা যাচ্ছে না। একবার মোটরে পানি ঢুকলে সারাতে কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়। তাই একটু বেশি ঘুরলেও এখন ফ্লাইওভার দিয়েই চলছি। আয় কম হলেও রিকশাটা অন্তত বাঁচছে।’
রিকশায় করে অফিস থেকে ফিরছিলেন নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ফ্লাইওভার দিয়ে যেতে কিছুটা সময় ও ভাড়া বেশি লাগছে। কিন্তু পানিতে আটকে থাকার চেয়ে এটা ভালো। নিচের রাস্তায় অনেক রিকশা বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। তাই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে আমরাও চালককে ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে বলছি।’
ফ্লাইওভারের নিচে তলিয়ে আছে সড়ক/ছবি: জাগো নিউজ
এদিকে, ফ্লাইওভার দিয়ে নতুন করে চলাচল করতে গিয়ে অনেক চালক পথ হারিয়ে ফেলছেন। রামপুরাগামী রিকশাচালক আলতাব হোসেন বলেন, ‘আজই প্রথম ফ্লাইওভারে উঠেছি। ভালো লাগলেও রাস্তা চিনতে না পেরে বাংলামোটরের দিকে চলে গিয়েছিলাম। পরে আবার ফিরে এসে রামপুরার পথে যেতে হয়েছে।’
শুধু রিকশা নয়, কেউ কেউ বাইসাইকেল নিয়েও ফ্লাইওভার ব্যবহার করছেন। তেমনই একজন সৈকত। তিনি বলেন, ‘মতিঝিল থেকে আসার পথে শাহজাহানপুর এলাকায় প্রচুর পানি ছিল। তাই কাকরাইল হয়ে এসে পরে ফ্লাইওভার ব্যবহার করেছি। চার বছরের চাকরি জীবনে এমন জলাবদ্ধতা খুব কমই দেখেছি।’
ইএআর/একিউএফ








