স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পদ ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে ৯ হাজার ৪০৭টি পদই শূন্য। নার্সদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি আশাব্যঞ্জক নয়। সারা দেশে অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৮৭৯টি নার্স পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪৫ হাজার ৩০২ জন, আর শূন্য পদের সংখ্যা চার হাজার ৫৭৭টি। সোমবার জাতীয় সংসদে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে। মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৬ হাজার ২৮৩ জন। ফলে মাঠপর্যায়েই শূন্য পদের সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৪৭টি। এর মধ্যে পরিবারকল্যাণ সহকারী পদের সংখ্যা ২৩ হাজার ৫০০টি হলেও কর্মরত আছেন ১৫ হাজার ২০৭ জন। শূন্য আট হাজার ২৯৩টি। পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা পদের ছয় হাজার ৩৬১টির মধ্যে তিন হাজার ১৬১টি পদই ফাঁকা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ চলমান প্রক্রিয়া। চিকিৎসকদের সংকট কাটাতে ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএসে এক হাজার ৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসে এক হাজার ৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ৬৫০ জন সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কমিউনিটি ক্লিনিকে ৫৪০ পদ শূন্য : বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সারা দেশে চালু থাকা ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বর্তমানে ৫৪০টি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) পদ শূন্য রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব শূন্য পদে নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রত্যেক উপজেলা সদরে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণ : মো. আব্দুল গফুরের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রত্যেক উপজেলা সদরে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনির ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণ করতে যাচ্ছে। এজন্য ল্যাবরেটরির ইকুইপমেন্ট আমদানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সংসদে স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এলো মন্ত্রীর বক্তব্যে : স্বাস্থ্য খাতের ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার বর্ণনা গতকাল উঠে এলো স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্যে। এমপি সাবিকুন নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে স্বাস্থ্য খাত ছিল উপেক্ষিত, কোনো নিয়োগ হয়নি। যন্ত্রপাতি আমদানি করে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়েছিল। এখন ভাঙারির দোকানে যাচ্ছে। ১৮ কোটি টাকা করে দুটি রেডিওগ্রাফ ও রেডিওথেরাপির মেশিন খুলনা এবং ফরিদপুরে পড়ে আছে। যেগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য ১১ কোটি টাকা। বাংকার সৃষ্টি না করে এগুলো আমদানি করা হয়েছে। অনেক জায়গায় এক্সরে মেশিন আনা হয়েছে টেকনিশিয়ান নেই। ল্যাবরেটরির মেশিন আনা হয়েছে, টেকনিশিয়ান নেই। এর দায় পড়েছে ভোটে নির্বাচিত সরকারের ওপর।

স্বাস্থ্য খাতে আসছে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্প : মন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও নীতিমালায় স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ‘চিকিৎসাকেন্দ্রিক’ থেকে ‘প্রতিরোধকেন্দ্রিক’ মডেলে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। যুক্তরাজ্যের জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) মডেলের আদলে প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ‘প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট’ গঠন করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের অধীনে তিনটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালিত হবে। এ ছাড়া উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করে সেখানে ২৪ ঘণ্টা জরুরি, ইনডোর-আউটডোর চিকিৎসা ও আধুনিক প্যাথলজি সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে নারী ও পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্টের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।