শেরপুরে দুই দিনের টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) ভোর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণ এবং উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদ, ঝিনাইগাতীর মহারশী নদী, পাহাড়ি এলাকার ঢেউফা, পাগলা নদী, ভোগাই, সোমেশ্বরী এবং মৃগী নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টায় চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। এছাড়াও অন্যান্য নদীর পানি বাড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি বেড়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এছাড়াও শেরপুর জেলা শহর হতে গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী আসার সড়কটি পানির তেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেকোনো সময় সড়কটি ভেঙে গিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এদিকে মহারশি নদীর পানি বেড়েও ঝিনাইগাতীর বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে।

শেরপুরে বেড়েছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা

ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর সভাপতি জাহিদুল হক মনির বলেন, ‘ঝিনাইগাতীর বিভিন্ন জায়গায় পানি উঠেছে। নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে কৃষি জমি, বাড়িঘরের বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে। কয়েকটি কাঁচা সড়কও ভেঙে গেছে।’

সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সহ সভাপতি শাহ জাহান তালুকদার বলেন, ‘এ বছরও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শেষ না হওয়ায় আগাম বন্যার শঙ্কা স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সম্ভাব্য দুর্যোগ নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।’

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি। পাহাড়ি নদীগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বৃষ্টি না হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু দুপুরের পর হতে বৃষ্টি কমে গেছে, তাই আশাবাদী পানি নেমে যাবে।’

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি নদীগুলোর পানি বেড়েছে। বিশেষ করে মহারশী ও চেল্লাখালী নদীর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী, পাউবোর লোকজন ও আমাদের জনবল নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. নাঈম ইসলাম/কেজে/জেআইএম