‘থ্রি ইডিয়টস’ খ্যাত শিক্ষাবিদ তথা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সকালে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পর এখন ১৯ দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, “সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে যে কোনো চিকিৎসা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন, তা করতে হবে। আমরা লক্ষ্য করছি যেকোনো নাগরিকের জীবন মূল্যবান… এবং তা রক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা উচিত।”
বুধবার দায়ের করা একটি আবেদনের ওপর আদালত এই রায় দেয়। আবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল, ৫৯ বছর বয়সী সোনম যদি অনশন না ভাঙেন, তবে তিনি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাঁচবেন না। আবেদনে পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারকে ‘সর্বনিম্ন উদ্বিগ্ন এবং অসংবেদনশীল’ বলে অভিযুক্ত করা হয়।
৮ দশমিক ৫ কেজি ওজন কমানোর পর দায়ের করা আবেদনে বলা হয়, “সবচেয়ে সহজ কাজটি হলো তাকে একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং তরল খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ জোর করে খাওয়ানো।”
বিবিসি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক গত ১৯ দিন ধরে লবণাক্ত পানি খেয়ে বেঁচে আছেন এবং ৯ দশমিক ১ কেজি ওজন হারিয়েছেন। তার সহকারীরা জানিয়েছেন, তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ভুগছেন এবং কোনো অবলম্বন ছাড়া দাঁড়াতেও পারছেন না।
শুনানির সময় আদালত ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে তদারকির অভাব নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে।
সরকার পক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা সবসময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নন,কখনো কখনো বেসরকারি চিকিৎসকরাও থাকেন।
এর জবাবে আদালত বলেছে, “আমরা চাই এই ব্যক্তি যেন সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিয়মিত ও দৈনিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়... এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যদি কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয়, অনুগ্রহ করে ব্যবস্থা নিন। প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।”








